রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
শিরোনাম

অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে , তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে

শান্তিপ্রিয়তার অজুহাতে ভাল আর খারাপের মধ্যবর্তী পথ বেছে নেওয়াটাই যেখানে আজ আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের করে তুলছে ঘৃন্য হতে ঘৃনতর।অন্যকে উৎপীড়ন করে, অন্যের অধিকারে অন্যায় হস্থক্ষেপ করে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সামাজিক শৃঙ্খলাকে নস্যাৎ করে, সামাজিক স্বার্থবিরোধী অন্যায় ও অবৈধ কর্মতৎপড়তা লিপ্ত হয়।ঠিক তেমনি ভাবে চলে পিশাচের উৎপীড়ন।

ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃত হওয়ায় ৭ই মার্চ সারা বাংলায় মুখরিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ভাষনে।রাজধানীর রাজ পথ ধন্য হয়ছিল সোনার ছেলেদের পদধূলিতে।আমি ও ছুটে চলেছিলাম বঙ্গভবন থেকে রেসকোর্র্স ময়দানে।গাড়ি না পেয়ে যখনপায়ে হেটে চলছিলাম কখন পিশাচের চোখে লালসা,মুখের ঘৃনিত বাক্যে,কখন বা পিশাচের হাতের ছোবলে আমাকে পৌছে দিল রেসকোর্র্স ময়দানে।এবার ফেরার পালা রিক্সার হুড টেনে রক্ষা হলনা।সামনে থেকে রংমাখা পানি পিছ থেকে মাথার চুল ধরে টানাটানি।খুব্দ হয়ে একবার নামব ভেবে একা আর ওরা……………।

  • আল্লাহ কেন মেয়েদের দুইটা হাত দিলো!!দুইটা হাত দিয়ে বুক-পিঠ বাঁচাবো,নাকি কোমর-পেট বাঁচাবো,ওড়না ধরে রাখব নাকি তাদের হাত গুলো সরাবো,মাথায় কিছুই অাসছিল শুধু  কেঁদেছি ,আমি দুঃখে কাঁদেনি বরং কেঁদেছি ঘৃনায় ।

    ১৭ই মার্চ সন্ধা ৭:০০ -৭:৩০ টা ফার্মগেট থেকে টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। সেজান পয়েন্ট এর সামনে থেকে নিউ ভিশন বাস দেখে হাত তুল্লাম বাস থামালো। বাসের সামনের হেডলাইটের জন্য বাহির থেকে সামনের বসে থাকা লোকগুলো দেখে মনে হয়েছিল বাস ভর্তি আছে। বাসে উঠে দেখলাম পিছনে পুরা ফাকা।অনেকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।আমি দাড়িয়ে বললাম আমাকে মোড়ে নামায় দেন।এই বলায় ড্রাইভার বল্লো গেট লাগায় দে।কন্টাক্টর যখন গেট আটকাবে আমি কোন চিন্তা না করেই তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বাস থেকে লাফ দিলাম। ব্যাথা পেয়েছি হাতে কিন্তু পাশেই কতগুলো পুলিশ দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেল্লাম,বললাম আপনারা পরের সিগনালে খবর দেন যেন বাসটা ধরে।কে শোনে কার কথা বাইক আটকে টাকা খাওয়াটা বেশি জরুরি মনে করেছিলো। হয়তো কালকের পেপারে আমার নাম থাকত।অথবা গুম হয়ে যেতাম। আমাদের দেশের পুলিশেরা উন্নতি করছে। জাতির পিতার সোনার বাংলা।শুভ হোক জন্মদিন…………..।
    ——-
    #এবার আসি কুমিল্লার তনু,দিনাজপুরের পোশাক শ্রমিক ইয়াসমিন ।সেনা নিবাসের ভিতরে ও রেহায় পায়নি সোহাগী জাহান তনু।সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের পাশে তনুর নিথর দেহ পরে থাকে কিভাবে?এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে কী?রাতের পুলিশের টহল থেকে মুক্তি মেলেনি পোশাক শ্রমিক ইয়াসমিনের।সকালে পাওয়া যায় নিথর দেহ, তখন পুলিশই গিয়েছিল লাশ আনতে।তারা ইয়াসমিনের থেকে রাস্তার উপরেই কাপড় নামিয়ে নিয়েছিল। চেষ্টা হয়েছিল তাকে দেহ ব্যবসায়ী বলে চালিয়ে দেবার কিন্তু দিনাজপুরের মানুষ তা হতে দেয়নি, পাশে ছিল সারা বাংলাদেশ। সে ঘটনায় দিনাজপুর কতোয়ালী ঘেরাও হয়েছিল, গুলি হয়েছে, আগুন জ্বলেছে, সাধারন মানুষ মরেছে। কিন্তু বিচার হয়েছে কী?
    ——–
    আর এভাবেই যখন আয়শা,প্রিয়া,তনু, ইয়াসমিনরা থেকে শুরু করে বৃহত্তর ক্ষেত্রেও এই চাপা দেয়া, অস্বীকার করার প্রবণতা। এতে দিন দিন অপরাধের সংখ্যা বাড়ে যায়। আর অপরাধীদের কোন বিচার হয় না। সোজা কথায় এদেশে একজন অপরাধী আর আমি বা আপনি সমান ঘৃণিত।এক জরিপে দেখা যায় বাংলাদেশের ৯৪ শতাংশ নারী গণপরিবহনে যৌন হয়রানিতে শিকার হয়। বিবেকবান মানুষ হিসাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার চেতনার অধিকারী হলেও অনেক সময় মানুষ নানা কারণে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন অন্যায়কে সহ্য করেন।সরাসরি অন্যায় না করলেও এটি অন্যায়কে সহযোগিতা করার নামান্তর। এতে করে অন্যায়কারী আরো পশ্রয় পায়।রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সামনে যদি কোনো অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখ, তবে হাত দ্বারা বাধা দাও, সামর্থ না থাকলে মুখ দ্বারা বাধা দাও, যদি তাও সামর্থ না থাকে তবে অন্তরে ঘৃনা করো। (অন্তরে ঘৃণার মানে হলো এ অন্যায় থেকে বিরত রাখতে নিরবে গোপনে অন্যায়ের প্রতিরোধমূলক কাজ চালিয়ে যাও) আর এটা হচ্ছে দুর্বলতম ঈমানের পরিচয়।তাইতো রবিঠাকুর বলেছেন,অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes