রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
শিরোনাম

‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গোপন করা হয়েছে’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ৫ এপ্রিল হাজির করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে এ সময় পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শুনানিও একই তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বুধভার রাজধানীর বকশিবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।

অন্যদিকে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার আইনজীবীরা। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আজ (বুধবার) মামলার তারিখ ধার্য ছিল। খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ হাজির করেননি। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কাস্টডিতে লেখা আছে তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে আদালতে আনা হচ্ছে না। আদালতের পরোয়ানার ফিরতি কাগজ (কাস্টডি পরোয়ানা) দেখেছেন উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আমরা দেখেছি খালেদা জিয়া অসুস্থ। সেখানে বলা হয়েছে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে আনা হয়নি। যেহেতু তিনি অসুস্থ, আমরা খুবই চিন্তিত। কারণ, আমরা জানতে পারছি না। উনারাও পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কী রোগে ভুগছেন, তিনি কেন তাকে আদালতে আনা হলো না- সরকারের পক্ষ থেকে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। শুধু লেখা আছে, খালেদা জিয়া জেলে অসুস্থ। এই মামলার আগামী তারিখ ধার্য করেছে ৫ এপ্রিল।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের আরেক সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা সাড়ে নয়টায় আদালতে এসেছি। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় ফোনালাপ করতে আমরা দেখলাম। তাদের মধ্যে আমরা বিভিন্ন দৌড়ঝাঁপ দেখেছি। বার বার মিটিং করতে দেখেছি। আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী কারণে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হচ্ছে না। অবশেষে আমরা যেটা দখলাম, কাস্টডি পরোয়ানা জেলখানা থেকে এসেছে। সেখানে আমরা জানলাম, তিনি অসুস্থ। তিনি বলেন, আমরা চিন্তিত। আমরা শঙ্কিত। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার প্রয়োজন। আমরা আগের জামিনে যে কথাগুলো বলেছিলম যে খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং বয়োবৃদ্ধ। এটিই আজকে কারা কর্তৃপক্ষের পাঠানো পত্রে প্রমাণিত হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এই মামলায় যুক্তিতর্কের দিন ধার্য ছিলো বুধবার। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেননি। উনি (খালেদা জিয়া) জেল কাস্টডিতে আছেন। তাকে হাজির করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। যেহেতু তাকে হাজির করা হয়নি তাই আমরা আর্গুমেন্ট করতে পারিনি। ৫ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য আছে। আশা করি সেদিন তাকে হাজির করা হবে।
কেন হাজির করেনি বা কী ব্যাখ্যা কারা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে, জানতে চাইলে কাজল বলেন, সেটা আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। আমি প্রসিকিউশন, আসামিকে আনা হলে আমি আমার কাজ করবো। এটা আমার বিষয় নয়। তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ হাজির না করার কারণ অনেক রকম থাকতে পারে। আমরা গত তারিখেও তাঁকে পাইনি। উনি জেল কাস্টডিতে আছেন। কাস্টডিতে থাকাকালে তাঁর দেখভাল করার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষের। কারা কর্তৃপক্ষ যদি হাজির না করে, এখানে তো আমাদের বলার কিছু নেই।

আদালতকে কারা কর্তৃপক্ষ কী জানিয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে দুদকের এই আইনজীবী বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ কী ব্যাখ্যা দিয়েছে আমি জানি না।

এ দিকে গতকাল খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হচ্ছে- এমন খবরে বকশীবাজারের বিশেষ আদালত ও কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালতের বাইরের বিভিন্ন সড়কে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের। আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তল্লাশি করে তাদের আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌশলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, অসুস্থতার কারনে খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তবে, দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেন নি। আর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তারা জানতে পেরেছেন, অসুস্থতার কারনে খালেদা জিয়াকে বুধবার আদালতে হাজির করা হচ্ছে না।

আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ (গতকাল) এই মামলায় যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য ধার্য আছে। আদালতে দুজন আসামি উপস্থিত আছেন। খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়। কিন্তু কেন হাজির করা হয়নি তা বলতে পারছি না। তাই আমরা ধরেই নিচ্ছি উনাকে আজ (গতকাল) হাজির করা হবেনা। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্বির আবেদন করেন। তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, যেহেতু তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে রয়েছেন, তাই তার জামিন বর্ধিত করার প্রয়োজন নেই।

এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। তখন মোশাররফ হোসেন এর বিরোধিতা করে বলেন, খালেদা জিয়া অন্য একটি মামলায় কারাগারে আছেন। কারাগারে থাকার কারণে তাঁর জামিনের কোনো সুযোগ নেই। তখন সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, জামিনের সঙ্গে কারাগারে থাকা বা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। বিচারক খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদন মঞ্জুর করে ৫ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করে ওই সময় পর্যন্ত খালেদার জামিন বর্ধিত করেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন আবদুর রেজাক খান, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে গত ১৩ মার্চ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রাডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) বা হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত। ২৮ ও ২৯ মার্চ এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করে ওই দুদিন তাকে আদালতে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয়া হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে এখনো এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়নি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes