রবিবার , ২২ এপ্রিল ২০১৮
শিরোনাম

টি-টোয়েন্টিতে আফিফসহ ৫ নতুন মুখ

292673_132শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করা হয়েছে। দলে জায়গা পেয়েছেন অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা তরুণ আফিফ হোসেন। এছাড়া ডাক পেয়েছেন আবু হায়দার, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান ও আবু জায়েদ চৌধুরি।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন অলরাউন্ডার আফিফ। ব্যাট হাতে ছয় ম্যাচে ৪৬ গড়ে ২৭১ রান করেছেন বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। শুধু ব্যাট নয় বল হাতেও দুর্ধর্ষ তিনি।

আফিফ ছাড়াও প্রথমবারের মতো দলে ডাক পেয়েছেন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান, পেস বোলিং অলরাউন্ডার আরিফুল হক, পেসার আবু জায়েদ ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান।

বিপিএলে ১৮টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় সাকিবের পরই ছিলেন আবু জায়েদ।

এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন আবু হায়দার। ১৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে তিনি খেলেছেন পাঁচটি টি-টোয়েন্টি। এর মাঝে সবশেষটি ছিল ২০১৬ সালের মার্চে।

আর তরুণ মেহেদি হাসান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে বিপিএলে দারুণ সময় কাটিয়েছেন।

এরা সবাই বিপিএলে ভালো পারফরমেন্স করার পুরস্কার হিসেবে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন।

এছাড়া চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন তামিম ইকবাল ও মোস্তাফিজুর রহমান। আঙুলের চোট কাটিয়ে ফেরায় নেতৃত্ব দিবেন সাকিব আল হাসান।

দলে নতুন মুখ যুক্ত হওয়ায় বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসির হোসেন, শফিউল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশ দল : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, আবু হায়দার, আবু জায়েদ, আরিফুল হক, মেহেদি হাসান, জাকির হাসান ও আফিফ হোসেন।

 

বিপিএল থেকে নিউজিল্যান্ডে লাইমলাইটে আফিফ

আফিফ, পুরো নাম আফিফ হোসেন ধ্রুব। বছর দেড়েক আগেও এই নামের কোনো ক্রিকেটারকে চিনত না কেউ। কিন্তু এখন বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান এবং বোলার। দুই বিভাগেই সমানতালে খেলেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ। তবে আফিফ সবার নজরে এসেছেন ২০১৬’র বিপিএলের আসরে। সেই দিন অভিষেকেই বাজিমাত করেছেন তিনি। তুলেছেন পাঁচটি উইকেট। সেই থেকে শুরু… এখন যুবা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে অবস্থান করছেন নিউজিল্যান্ডে। সেখানেও নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত এই তরুণ।

আফিফের জন্ম ১৯৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর খুলনায়। বিকেএসপির এই ছাত্র অফ স্পিন বল করলেও মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। ব্যাট করেন বাঁ হাতে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আফিফ আছেন অনূর্ধ্ব-১৪ থেকেই। যুব দলে আসার আগে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৭ ক্রিকেটেও।

তবে বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে আফিফ সবাইকে চমকে দেন বল হাতে। চিটাগংয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে নিজের প্রথম ওভারে পরপর দুই বাউন্ডারি খেয়ে পরের বলেই ‌জহুরুল ইসলামকে সাজঘরে ফেরান। আর পরের ওভারে তিনি যা করেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে আফিফের ক্যারিয়ার। দ্বিতীয় ওভারে ক্যারিবীয় দানব ক্রিস গেইলকে বোল্ড করেন এই অফস্পিনার। প্যাডে লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পেই। পরাস্ত হওয়ার পর পেছনে না তাকিয়ে ড্রেসিংরুমে সোজা হাঁটা ধরেন গেইল।

১৭ বছরের এই তরুণের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে সবাই ঘোরের মধ্যেই ছিল। আর গেইল! সেদিনের আগে কখনো এই বোলারের কথা শুনেননি টি-২০ এই রাজা।

গেইলের পর সেদিন আরো তিনজনকে ড্রেসিং রুমে ফেরান আফিফ। তিন ওভারের প্রথম স্পেলে ফেরান জাকির হাসানকে। ১৩তম ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে শিকার করেন সাকলাইন সজীব আর ইমরান খানের উইকেট।

আফিফকে সেদিন দলে নিয়ে ‘বাজিই’ ধরেছিলেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। অপরিচিত এই ক্রিকেটার সেদিন ম্যাচের মধ্যমনি ছিল। সে একটা করে উইকেট শিকার করত আর সতীর্থরা উল্লাসে মেতে উঠত। আর স্যামি? তরুণ এই ক্রিকেটারের পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়ে বার বার পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন তিনি।

৪-১-২১-৫, বিপিএলের অভিষেক ম্যাচে এই হলো আফিফের বোলিং পরিসংখ্যান। সেদিন টুর্নামেন্টের অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন আফিফ।

এর পর ব্যাট হাতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন এই তরুণ। করেছেন সেঞ্চুরি।

সেই থেকে শুরু। আর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আফিফ এখন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করছেন। সেখানে লাইমলাইটে এই তরুণ তুর্কি। শিরোনামে আসছেন বার বার। কানাডার বিপক্ষে গ্রুপ-পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট এবং বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন। দলের প্রয়োজনে সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ব্যাট হাতে করেছেন চোখ ধাঁধানো ফিফটি। হাঁকিয়েছেন পাঁচ বাউন্ডারি ও এক ছক্কা।

ব্যাট হাতে তাণ্ডবের পর বল হাতেও ছিলেন দুর্ধর্ষ। কানাডার ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামান এই অফস্পিনার। টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে বিদায় করেন তিনি। শুরুতেই উদ্বোধনী জুটির ভাঙন ধরান। সাজঘরে ফেরান প্রণব শর্মাকে। এরপর রন্ধির সাধুকে। কিছুটা বিরতি দিয়ে জোড়া আঘাত হানেন। এক ওভারে ফেরান কানাডার আরো দুই ব্যাটসম্যানকে।

তার বোলিং তাণ্ডবে ৬৬ রানের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। আরো একবার জয়ের নায়ক এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন আফিফ হোসান ধ্রুব।

আফিফের আরো কিছু অর্জন :

ভারত : ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ভারতের বেঙ্গল অনূর্ধ্ব-১৫, কেরালা অনূর্ধ্ব- ১৭ ও মধ্যপ্রদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের বিপক্ষে খেলেছেন আফিফ। এছাড়া ২০১৪ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের বিপক্ষে চার ম্যাচ। সেখানে ২৩.২৫ গড়ে করেন ৯৩ রান এবং উইকেট নেন ৫টি।

পরের বছর ভারতের বেঙ্গল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ৭ ইনিংসে চার অর্ধশতকের সাহায্যে ৬৩.৬৬ গড়ে করেন ৩৮০ রান। বল হাতে নেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় চার ম্যাচের সিরিজে ৯৮, ৬৮* রানের ইনিংস ও ২ উইকেট নিয়ে হন ম্যান অব দ্য সিরিজ।

বিকেএসপি : বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ৯ ম্যাচে ৩৩.২৭ গড়ে করেছেন ৪৯৯ রান এবং নিয়েছেন ১৪ উইকেট।

বিকেএসপির হয়ে ঢাকা ফাস্ট ডিভিশন ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ৬ ইনিংসে করেছেন ১৪৮ রান। নিয়েছেন মাত্র ২টি উইকেট।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes