বুধবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
শিরোনাম

ফেনীতে খালেদার এবং গনমাধ্যম এর গাড়ি ভাঙচুর

khaleda-attact-ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কক্সবাজারগামী গাড়িবহরের নয়টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় সংবাদমাধ্যমের সাতটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এতে ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকেলে পৌনে ৫টার দিকে ফেনীর লালপুর নামক স্থানে একটি হোটেলের সামনে খালেদা জিয়ার বহরের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সেখানে বিএনপির নেতারা ছাড়াও গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন।

এ ঘটনার সময় খালেদা জিয়া ফেনী শহরে প্রবেশ করেননি। কিছু গাড়ি বহরের আগে এসে ওই হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়েছেন।

পরে একই জেলার ফতেহপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের বহরের আরো সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একাত্তর টিভি, জিটিভি ও ডিবিসি টিভি, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে ও ইট-পাটকেল ছুড়ে এসব গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব গাড়ির মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর গাড়ি রয়েছে।

লালপুরে হোটেল সেভেন স্টারের সামনে হঠাৎ করেই কিছু দুর্বৃত্ত আসেন। একপর্যায়ে কথাকাটির জের ধরে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় সেখানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। হঠাৎ করেই অন্য প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন এসে লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ চালালে দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে যায়। এ সময় সেখানে থাকা বহরের অন্য গাড়িগুলো দ্রুত সরিয়ে নেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে আরো কিছু দুর্বৃত্ত সেখানে আসেন। পরিস্থিতি এড়াতে সেখানে থাকা বিএনপির নেতারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগে চৌদ্দগ্রামে ঢিল ছুঁড়লে চ্যানেল আইয়ের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মহিপাল নামক স্থানে বৈশাখী টিভির একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে গেছে।

এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে সড়ক পথে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শনিবার চট্টগ্রাম পৌঁছে সেখানকার সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন বিএনপি নেত্রী। যাত্রাপথে দুপুরে ফেনীর সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি করবেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ শেষে রওনা দিয়ে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন রাতে। রোববার চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাবেন তিনি। রোববার কক্সবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান করে সোমবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন তিনি। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, বোয়ালমারা ও জামতলী রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বিএনপি প্রধান।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাড়িবহরে হামলা প্রসঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা এ হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। তিনি অবিলম্বে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।’

বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া তার এই সফরে প্রায় ১০ হাজার শরণার্থীকে ত্রাণ দেবেন। এর আগে ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধপল্লীতে হামলা ও ভাঙচুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে কক্সবাজারে যান খালেদা জিয়া।

 

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes