রবিবার , ২১ জানুয়ারি ২০১৮
শিরোনাম

ঘুরে আসতে পারেন বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক

DSC_0152সাফারি পার্ক নিয়ে সবারই একটা আলাদা আগ্রহ থাকে। সুন্দরবনে যেয়ে তো আর খোলামেলাভাবে বাঘ বা সিংহ দেখার উপায় নেই, তাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে সাফারি পার্কের বিকল্প নেই।

আমরা অনেকেই হয়তো সিনেমায় দেখিছি, গাড়িতে চেপে আফ্রিকার কোনো বিশাল সাফারি পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। কিন্তু আপনি আফ্রিকায় না যেয়ে, ইচ্ছে করলে যে কোনও দিন পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে। এই পার্কে আপনার ছোট্ট ছেলেমেয়েদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীবজন্তু সম্পর্কে সরাসরি পরিচিত করিয়ে দেয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করা পশুপাখি, জীবজন্তু দেখার ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকার একদম পাশে গাজীপুরে গড়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। ঢাকা থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটারের রাস্তা। সেখানেই একসময়ের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়ালগড়। ওই ভাওয়ালগড়ের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশেই চালু করা হয়েছে এই বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। বাঘ, সিংহ, আফ্রিকান সাদা সিংহ, হরিন, জেব্রা, জিরাফ সব উন্মুক্ত ঘুরে বেরাচ্ছে আর মানুষ খাচায় বন্দি হয়ে তা দেখছে।

DSC_0106গাড়ির ভিতর থেকেও বাঘ, সিংহ কিংবা জিরাফকে ক্যামেরা বন্দি করতে পারবেন।

সাফারি পার্কের টুকিটাকি
তিন হাজার ৬৯০ একর জায়গা নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সাফারি পার্ক। গাজীপুরের শ্রীপুরে এই পার্কে এক হাজার ২২৫ একর এলাকা নিয়ে কোর সাফারি, ৫৬৬ একর এলাকা নিয়ে সাফারি কিংডম, ৮২০ একর এলাকা নিয়ে বায়োডাইভার্সিটি, ৭৬৯ একর এলাকা নিয়ে এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি এবং ৩৮ একর এলাকা নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। পার্কে বন্য ও অবমুক্ত প্রাণীর নিরাপত্তার জন্য ২৬ কিলোমিটার মাস্টার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা এই প্রাচীরের ভেতরে থেকে উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণ করা বন্য প্রাণী দেখতে পারেন। পার্কে বাঘ, সিংহ, ভাল­ক চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, ওয়াইল্ড বিস্ট, বে­সবক, উটপাখি, ইমুসহ বেশ কিছু প্রাণী মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে।

পার্কের পশুপাখি ও অন্যান্য
বন ও প্রাণীবৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য এই সাফারি পার্কে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের প্রকৃতি বীক্ষণ কেন্দ্র। এ ছাড়া তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র, নেচার হিস্ট্রি মিউজিয়াম, পার্ক অফিস, বিশ্রামাগার, ডরমেটরি, বন্য প্রাণী হাসপাতাল, কুমির পার্ক, লিজার্ড পার্ক, ফেন্সি ডাক গার্ডেন, ক্রাউন ফ্রিজেন্ট এভিয়ারি, প্যারট এভিয়ারি, ধনেশ পাখিশালা, ম্যাকাউ ল্যান্ড, মেরিন অ্যাকুয়ারিয়াম, অর্কিড হাউস, প্রজাপ্রতি বাগান, ক্লাইমেট হাউস, ভালচার কর্নার, ঝুলন্ত ব্রিজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, বাঘ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, সিংহ পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, কচ্ছপ প্রজননকেন্দ্র, ইকো রিসোর্ট, ফুডকোর্ট, এলিফ্যান্ট শো গ্যালারি, বার্ড শো গ্যালারি, এগ ওয়ার্ল্ড ও শিশুপার্ক রয়েছে।

আছে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বাস ও সাফারি জিপ। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ১১টি বাঘ, নয়টি সিংহ, চারটি জিরাফ, চারটি হাতি, ২৮টি কুমির, ২০টি ম্যাকাউ পাখি, ৩ শতাধিক টিয়া পাখি, নয়টি ভাল­ক, ২৩টি হরিণ, ৪৫টি ক্রাউন ফ্রিজেন্ট ও ছয়টি জেব্রাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সহস্রাধিক পশুপাখি রয়েছে।

DSC_0020সাফারি পার্কে বেড়াতে এসে

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা স্কুল কমিউনিটি ক্লাবের সদস্যরা বলেন, ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় বন্দী জীবজন্তুর চেয়ে এখানে বিশাল মাঠে বাঘ, সিংহ, হরিণ, জিরাফ দেখার মজাই আলাদা। গাড়িতে চড়ে পার্কের ভেতরে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা শুয়ে থাকা বাঘ-সিংহগুলো গাড়ি আসতেই দৌড়ে সরে যেতে দেখে শিহরিত হয়ে অনেকে চিৎকার করে ওঠেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে এসে আমি দারুণ মজা পেয়েছি।’

যেভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ রুটের যেকোনো বাসে গাজীপুরের বাঘের বাজার নামতে হবে। যেতে আনুমানিক দুই ঘণ্টা সময় লাগে, তবে রাস্তায় জ্যাম পড়লে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। বাঘের বাজার নামলেই চোখে পরবে সাফারি পার্কের গেট। সেখান থেকে রিকশায় ২০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যাবেন পার্কের মূল প্রবেশ ফটকে।

পার্কিং ফি
প্রতিটি বাস/কোচ/ট্রাক ২০০ টাকা, মিনিবাস/মাইক্রোবাস ১০০ টাকা, কার/জিপ ৬০ টাকা, অটোরিকশা ২০ টাকা। গাড়িতে চড়ে সাফারি পার্ক পরিদর্শন অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রতিজন ৫০ টাকা, প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিজন ১০০ টাকা। এ ছাড়া ক্রাউন ফ্রিজেন্ট এভিয়ারি পরিদর্শন ১০ টাকা, ধনেশ এভিয়ারি ১০ টাকা, প্যারট এভিয়ারি ১০ টাকা।

ফাহিম

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes