বুধবার , ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
শিরোনাম

ছোট শিশুর জন্য কি অ্যান্টিবায়োটিক প্রযোজ্য?

অনেক সময় খুব ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে মা-বাবারা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে ভয় পান। আসলে কি এতে ভয়ের কিছু রয়েছে? নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৬০৬তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ইফতেখার উল হক খান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের শিশু বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : অনেক সময় হয়তো খুব ছোট বাচ্চার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক মা-বাবারা দিতে চান না। চিকিৎসক দিতে গেলে কিছুটা শঙ্কাবোধ করেন। এই বিষয়ে কিছু বলুন।

উত্তর : যেখানে প্রয়োজন আছে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। একদিনের বাচ্চাকেও অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। জীবন বাঁচানোর জন্য শিশুকে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হবে। সঠিক মাত্রায় যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। সেই ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেই। বরং যদি সঠিকমাত্রায় সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া না হয়, সেই ক্ষেত্রে অনেক সময় বাচ্চার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সুতরাং আমার মনে হয় মা-বাবাদের এই রকম অস্বস্তির কোনো কারণ নেই। বরং চিকিৎসকের কাছে গেলে এর পরামর্শ সঠিকভাবে করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। শিশুদের বয়স এবং ওজন অনুযায়ী। শিশু কী ধরনের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, সেই এলাকায় এই মুহূর্তে কোন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ভালো কাজ করে সেটি বুঝে দিতে হবে। এক সময় কিন্তু টনসিলাইটিসের জন্য আমাদের দেশে অ্যামোক্সিসিলিন বা কোরটাইম অক্সাসল আরো আগে পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ খুবই ব্যবহার করা হতো। এগুলো ভালো কাজও করত। তবে এখন দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে এগুলো কাজ করছে না। সুতরাং এই বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাই সবকিছু মূল্যায়ন করে যখন আপনি চিকিৎসকের কাছে যাবেন, তার পরামর্শ সঠিকভাবে পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।

প্রশ্ন : কালচার সেনসিভিটি বলে একটি বিষয় রয়েছে। কোন জীবাণুর বিরুদ্ধে কোন অ্যান্টিবায়োটিক ভালো কাজ করবে। এই ফলাফল পেতে তো তার কিছুদিন সময় লেগে যায়। এই ক্ষেত্রে শিশুটি হয়তো রোগ নিয়ে আসল আপনাদের কাছে। রেজাল্টের জন্য কী অপেক্ষা করেন, না কি আগে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করেন? কীভাবে কাজটি করেন?

উত্তর : এটা হলো সম্পূর্ণভাবে একজন বিশেষজ্ঞের বিবেচনা। একজন চিকিৎসক যদি মনে করেন তার রোগটি সংক্রমিত হয়েছে, এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত, তাহলে উনি সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দেবেন। এর আগেই উনি নুমনা বা স্যাম্পল কালচার সেনসিটিভিটির জন্য পাঠিয়ে দেবেন। কালাচার সেনসিটিভিটির রিপোর্ট আপনাদের কাছে আসতে মোটামুটি ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু এর মধ্যে তো বাচ্চাকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা যাবে না। এই জন্য আমরা অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে দেই। এর পরে যখন রিপোর্ট আসে, প্রয়োজন হলে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তন করা লাগতে পারে। অথবা বন্ধ করা লাগতে পারে। বা আমরা হয়তো মুখে খাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছিলাম, সেটা শিরা পথে ইনজেকটেবল ফর্মে দেওয়া হতে পারে। এই ধরনের কিছু পরিবর্তন লাগতে পারে।

 

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes