শনিবার , ২৬ মে ২০১৮
শিরোনাম

কেন্দ্রীয় কারাগারের ”ছাব্বিশ সেলে” লতিফ সিদ্দিকী

latif cartoon৭১বাংলা:

হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে মামলায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের এই কারাগারে তার জায়গা হয়েছে ‘ছাব্বিশ সেল’ ভবনে প্রথম শ্রেণীর হাজতির মর্যাদায়।

কারাগারের জেলার নেসার আলম  এসব তথ্য জানান।

২৬টি কক্ষ (সেল) থাকায় কারাগারের ওই ভবন ‘ছাব্বিশ সেল’ নামে পরিচিত। প্রথম শ্রেণীর হাজতিদের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের প্রতিটি কক্ষে একজন করে বন্দী থাকেন। কারাগারের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে সোজা দেড় শ গজ হাঁটার পর আরেকটি ফটক পড়ে। সেটি পার হয়ে বাঁ দিকে আরো এক শ গজ রাস্তা পার হলে এ ভবন। ‘দালান’ হিসেবেও এ ভবন পরিচিত।

সাবেক প্রধান বনরক্ষক ড. ওসমান গনি ছাড়াও আরো ২৪ জন বন্দী ওই ভবনে আছেন বলে জানান জেলার নেসার আলম।

কারাগারের একজন ডেপুটি জেলার  বলেন, “ছাব্বিশ সেলে ডিভিশনপ্র্রাপ্ত আসামিরা থাকার নিয়ম থাকলেও টাকার বিনিময়ে যেকোনো আসামি থাকতে পারেন।”

নেসার আলম বলেন, ডিভিশন সেলে প্রথম শ্রেণীর বন্দীরা যেসব সুবিধা পান তার সবগুলোই পাবেন লতিফ সিদ্দিকী।

কারগার সূত্র জানায়, ছাব্বিশ সেলের চৌকা (রান্নাঘর) থেকে পছন্দের খাবার রান্না করিয়ে খেতে পারবেন লতিফ। তার কক্ষে রয়েছে একটি চৌকি, চৌকিতে তোষক, বালিশ, বিছানাচাদর। আছে একটি টেবিল, একটি চেয়ার। ফ্যানও আছে।

কারাগারে সাধারণত প্রথম শ্রেণীর বন্দীদের সকালে রুটি, ভাজি, ডিম ও কলা খেতে দেয়া হয়। কয়েক দিন পরপর এ মেন্যু বদলায়। কোনোদিন থাকে খিচুড়ি, কোনোদিন রুটি-ভাজি। দুপুরে ভাত, মাছ ও মাংস। রাতে খাবার দেয়া হয় ভাত, সবজি, ডাল, মাছ ইত্যাদি।

ছাব্বিশ সেলের চৌকায় (রান্নাঘর) দায়িত্বপালনকারী এক কারারক্ষী তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, “কারাগারের সরকারি চাল ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীরা সাধারণত খান না। তাদের পছন্দের চিকন চালের ভাত দেয়া হয়। লতিফ সিদ্দিকীর বেলায়ও তার পছন্দের খাবার দেয়া হবে।”

আদালতের আদেশে মঙ্গলবার বিকাল পৌনে চারটায় লতিফ সিদ্দিকীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। তার আগে লতিফকে রাখা হয় ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায়।

হাজতখানা থেকে লতিফকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয় বেলা তিনটা ২৫ মিনিটে। প্রিজন ভ্যান থেকে নামিয়ে তাকে কারাগারের ভেতরে নিতে গেলে তিনি মূল ফটকের ‘পকেট গেট’ দিয়ে মাথা নিচু করে ঢুকতে আপত্তি করেন। ভেতরে নিতে হলে কারাগারের মূল ফটক খুলতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

পুলিশ সদস্য ও কারা কর্মকর্তারা বিষয়টি লতিফ সিদ্দিকীকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষে বিকাল পৌনে চারটায় জেল সুপার ফরমান আলী গিয়ে মূল ফটক খুলে লতিফসহ ভেতরে ঢোকেন।

২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা ও দল থেকে অপসারিত হন লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও দেশের ১৮টি জেলায় ৩০টির মতো মামলা হয়। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় বেশ কয়েকটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই গত রোববার রাতে লতিফ সিদ্দিকী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে কলকাতা থেকে ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। মঙ্গলবার দুপুর একটায় ধানমন্ডি থানায় গিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। (নতুনবার্তা)

৭১বাংলা/ইএম

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes