সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

মানিকগঞ্জে ৪ মাস পর কবর থেকে গৃহবধূ লাশ উত্তোলন

lash uddar৭১ বাংলাঃ

আদালতের নির্দেশে পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য প্রায় চার মাস পর এক গৃহবধূর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ উত্তোলন করেই পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মানিকগঞ্জের নিবা©হী ম্যাজিস্ট্রেট পুর্নেন্দু দেব এর উপস্থিতিতে জেলার দৌলতপুর উপজেলার বহরাবাড়ি এলাকার স্থানীয় কবরস্থান থেকে এই লাশ উত্তোলন করা হয়।

চলতি সনের ১৬ নভেম্বর হত্যা মামলার বাদী ভিকটিম খালেদা আক্তারের পিতার আবেদনের প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাহাদৎ হোসেন ২ ডিসেম্বর এই নির্দেশ দেন।৩ আগষ্ট ২০১৪ দিবাগত রাতে স্বামীর বাড়ীর বসত ঘরে খুন হয় গৃহবধূ খালেদা।

প্রথম স্ত্রী খালেদাকে না জানিয়ে বছর খানেক আগে গোপনে শহীদুল ইসলাম তার কর্মস্থল ঢাকায় সহকর্মী পাপিয়া আক্তারকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে। এ ঘটনা জানাজানি হলে দাস্পত্য কলহ শুরু হয় প্রথম স্ত্রীর সাথে। এ জন্যই খালেদাকে খুন করা হয় বলে দাবী করেন ভিকটীমের স্বজনরা।২য় স্ত্রী পাপিয়ার বাড়ী বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দূর্গাহাটা ইউনিয়নের গরেরবাড়ি গ্রামে। তার পিতার নাম খালেক মন্ডল।

ঘটনার সময় ভিকটীম খালেদা দেড় মাস বয়সী একমাত্র শিশু পুত্র আলিফকে রেখে গেছেন।মামলার বিবরণ, পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী, ভিকটীমের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগষ্ট দিবাগত রাত ৯টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার বেহালী খামার গ্রামে গৃহবধূ খালেদার শ্বশুর বাড়ীর নিজ বসতঘরে এই জঘণ্য হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।ভিকটিমের স্বামী শহীদুল ইসলাম তার স্বজনদের সহায়তায় খালদাকে হত্যা করেছে বলে ৫ জনকে বিবাদী করে পরদিন ৩ আগষ্ট নাগরপুর থানায় অভিযোগ করে। বসত ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করে এবং ঐ দিনই ভিকটীম গৃহবধূ খালেদার শ্বাশুড়ীকে আটক করে।

পরে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী অনুয়ায়ী লাশের বাম চোখের নিচে ফুলা জখম, নিচের ঠোঁট কাটা জখম, মাথার বাম পাশে ফুলা জখম এবং গলায় গামছা পেঁচানোর জখম ছিল। কিন্তু ময়না তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রফিকুল ইসলাম মিয়ার রিপোর্টে অনুযায়ী দেখা যায় ভিকটীম খালেদা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তের এই রিপোর্টে সংক্ষুদ্ধ হয়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির লক্ষ্যে পুনঃ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গত ১৬ সেপ্টেস্বর (২০১৪) আবেদন করেন ভিকটীমের পিতা।

বিজ্ঞ অতিরিক্তি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদৎ হোসেনের আদালত গত ২ নভেম্বর লাশের পুনঃ ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন। ভিকটীমের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বহরাবাড়ি গ্রামের মোঃ আঃ খালেক শেখ এর কন্যা খালেদা আক্তারের সাখে টাঙ্গাইলএজলার নাগরপুর থানার বেহালী খামার এলাকার সেকেন্দার আলীর পুত্র মোঃ শহীদুলের সাথে বিয়ে হয় বছর খানেক আগে। আলিফ নামে তাদের একটি শিশু সন্তান রয়েছে যার বর্তমান বয়স ৫ মাস।

শহীদুল ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোস্পানীতে চাকরী করে। ঘটনার মাস তিনেক আগে খালেদা গর্ভাবস্থায় বাবার বাড়ি আসে এবং এখানেই পুত্র সন্তান আলিফের জন্ম হয়।গত ঈদুল ফিতরের সপ্তাহ খানেক আগে খালেদার শ্বশুর ও দাদী শাশুড়ী তাকে শশুর বাড়ি নিয়ে যায়। বাবার বাড়ি ৩ মাস থাকাবস্থায় পুত্র সন্তান জন্ম নিলেও খালেদার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি স্বামী শহীদুল।

গত ২ আগষ্ট শহীদুল বাড়ি আসে। ঐ দিনই রাত ১২টায় খালেদার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবা স্বজনদের নিয়ে রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছান। তখন মৃত খালেদাকে তার বসত ঘরের মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান তারা।এ সময় লাশের বাম চোখের নিচে ফুলা জখম, নিচের ঠোঁট কাটা জখম, মাথার বাম পাশে ফুলা জথম এবং গলায় গামছা পেঁচানোর জখম জানান স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

৭১ বাংলা/ বাবুল আকতার সেলিম,মানিকগঞ্জ

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes