সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

অনলাইন কলগার্ল ব্যবসার পর্দাফাঁস

klgirl৭১বাংলা:

গুজরাতের রাজধানী আমেদাবাদে একটি হাইপ্রোফাইল সেক্ট র‍্যাকেটের পর্দাফাঁস হওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। অনলাইনের মাধ্যমে এই র‍্যাকেটটি চালানো হত এবং দেশের বিভিন্ন শহরে যুবতীদের যোগান দেওয়া হত। র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন অফার দিত এমনকি ভার্জিন মেয়ে দেওয়ার লোভও দেখাত। মেয়েদের তালিকায় কলেজ ছাত্রী, গৃহবধূ, মডেল, টিভি অভিনেত্রী ও সেলিব্রিটিও ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপে একটি কলগার্লের ছবি ভাইরাল হওয়ার পরেও এই র‍্যাকেটের কথা প্রকাশ্যে আসে। আসলে গ্রাহকদের কাছে পাঠান এই ছবি ফাঁস হয়ে যায় আর এর পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে ওই ওয়েবসাইটটিরও খোঁজ পাওয়া যায় যার মাধ্যমে র‍্যাকেট চালানো হত। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমের শিক্ষিতা সুন্দরীদের সঙ্গে সহবাসের অফার দেওয়া হত।

সংবাদ সংস্থা টিওআই একটি স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে এই র‍্যাকেটের পর্দাফাঁস করে। এই রিপোর্টে জানানো হয়, এই র‍্যাকেট সারা দেশেই সক্রিয় ছিল। অনলাইনে বুকিংয়ের পরেই দেশের বিভিন্ন শহরে মেয়েদের পাঠান হত। এমনকি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইচ্ছুক কলগার্ল ও জিগিলোদেরও নেওয়া হত। এই ওয়েবসাইটে কোনও এক গ্রাহককে প্রায় ১০-১১টি মেয়ের ছবি দেখান হত। এদের মধ্যে যাকে পছন্দ হতে তার সঙ্গে একটি রাত কাটানোর জন্য ১৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হত। এই ওয়েবসইটে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে তাদের কলগার্লরা কন্ডোম ছাড়াও সুরক্ষিত যৌনসম্পর্ক তৈরি করতে পটু। এই র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্তরা অনলাইন বুকিংয়ের আগে গ্রাহকদের থেকে ৫০ শতাংশ টাকা অগ্রিম নিত।

স্টিং অপারেশনে যে কথাবার্তা হয় তাতে এক এজেন্ট বলেছেন, একরাতের জন্য অন্তত ১২ হাজার টাকা দিতে হবে। যদিও দুই ঘন্টার জন্য ছয় হাজার টাকা দিতে হবে। সে এমনও বলে ১৭ বছরের কুমারী মেয়ে পতে হলে গ্রাহককে ৬০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এরপর ফের এজেন্টকে ফোন করা হলে সে যুবতীর দাম বাড়িয়ে দেয়। সে বলে আমেদাবাদের একটি তিনতারা হোটেলে গ্রাহক ও যুবতীর জন্য আলাদা ঘর নেওয়া হবে যেগুলি একেবারেই পাশাপাশি থাকবে। রাতে যুবতী চুপচাপ গ্রাহকের ঘরে চলে যাবে। এজেন্ট তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য জানায়, রাতে পুলিশের রেড হলে যুবতী আবার নিজের ঘরে চলে যাবে ফলে তারা দুজনেই সুরক্ষিত থাকবে।

তদন্তে জানা যায় গুজরাটের ভরুচ থেকে ওই র‍্যাকেটি চালানো হত এবং তারা মেয়েদের আমেদাবাদে পাঠাত। এছাড়াও পাটনা, কলকাতা, জামশেদপুর, ভাগলপুর, রাঁচি, রায়পুর, ইটানগর, ভুবনেশ্বর, সম্বলপুর. জয়পুর, আজমের, মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, চন্ডীগড় ও আম্বালাসহ দেশের অন্যান্য শহরেও কলগার্লদের পাঠান হত। যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই দেহব্যবসা চলত সেখানেই কোনার দিকে কলগার্ল ও জিগোলোদের ভর্তির বিকল্প ছিল। ওই ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিরা অনেক বেশি টাকা রোজগারের লোভ দেখিয়ে ছেলে-মেয়েদের আকর্ষিত করত। এছাড়াও বিভিন্ন শহরের দেহব্যবসায়ীদেরও তারা নিজেদের র‍্যাকেটে সামিল করে তাদের মাসিক প্যাকেজে রাখত।

এই মামলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিসিপি হিমাংশু শুক্লা জানিয়েছেন, এই ধরনের র‍্যাকেট বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গুরুকুলের কাছে একটি হোটেলে মহিলা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অনলাইন সেক্স র‍্যাকেটের পর্দাফাঁস করেছে। এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপরে এই র‍্যাকেটের দালালদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes