শনিবার , ২৬ মে ২০১৮
শিরোনাম

যারা গুন্ডামি করে বেড়ায় তারাই ছাত্রলীগ করে: উমর

Bodruddin_Omorঢাকা: বিশিষ্ট গবেষক, রাজনীতিবিদ, কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমর বলেছেন, ছাত্রলীগের মিটিংয়ে সরকারি চাকুরি বিষয়ে যেভাবে উপদেষ্টা বললেন, তাতে কি বুঝা যায়। ছাত্রলীগ ছাড়া কেউ চাকরি পাবে না। যারা গুন্ডামি করে বেড়ায়, পড়ালেখা করে না, তারাই ছাত্রলীগ করে। তাই দেখা যাবে, আজ প্রশাসন বলুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পর্যায় বলুন, ভালো ছাত্রছাত্রী উধাও হয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক স্মরণসভায় বদরুদ্দীন উমর এই মন্তব্য করেন।

লুটেরা শ্রেণির উৎখাত ছাড়া দেশে পরিবর্তন আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বদরুদ্দীন উমর। এজন্য সমাজ পরিবর্তনের লড়াইতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সমাজ পরিবর্তনের বামরাজনীতিক, লেখক নুরুল হুদা মির্জার’ তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে নুরুল হুদা মির্জা স্মৃতি পরিষদ।

বাম রাজনীতিক ও লেখক নুরুল হুদার বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বদরুদ্দীন উমর দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দেশে দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য শ্রেণি চরিত্রই দায়ী। বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর যাদের কোনো সম্পদ ছিল, তারা দেশের সম্পদ দখল করেছে, লুটপাট করেছে। শেখ মুজিব প্রকৃত পক্ষে ফাদার অব নেশন না হলেও ফাদার অব রুলিং ক্লাস বলা যায়। কারণ ওই শ্রেণিকে শেখ মুজিবও তৈরি করেছেন।’’

দেশের প্রধান দুই দলের সমালোচনা করে বদরুদ্দীন উমর বলেন, “এখন রযা  বের বিরুদ্ধে বিএনপি কথা বলছে। এটি তাদের সময় গঠন করা হয়েছে। তখনও র্যালবের হাতে মানুষ খুন হয়েছে। ওই সময়ে হত্যা হলে বলা হতো হার্টফেল করেছে।’’

তিনি বলেন, “আর এখন আওয়ামী র্যা ব মোটাতাজা করে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা গুম করে এসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে। পার্থক্য একটাই আগে হার্টফেলে হত্যা হতো, এখন গুম করে হত্যা হচ্ছে।’’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এখন রাজনীতিতে কোনো ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আসে না। অথচ পাকিস্তান ও বৃটিশ আমলে সব ভালো ছাত্ররা রাজনীতিতে আসতো। ভালো ছাত্ররা বামরাজনীতি করতো।’’

প্রধানমন্ত্রী এইচটি ইমামের বক্তব্যের সমালোচনা করে বদরুদ্দীন উমর বলেন,  ছাত্রলীগ ছাড়া কেউ চাকরি পাবে না- এটাই তার বক্তব্যের মূল কথা।”

গণজাগরণ মঞ্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে শাহবাগে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল- তা ছিল একটি প্রজন্মের স্ফুলিঙ্গের পূর্বাভাষের মতো। কিন্ত কী দেখা গেল।
তিনদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এই গনজাগরণ মঞ্চ কৌশলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেল। তাদের সাংস্কৃতিক জোটকে দাঁড় করিয়ে দিল। বিরানির প্যাকেট সরবারহ করতে শুরু করল। সেখানে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হলো। এভাবে নতুন প্রজন্মের একটি জাগরণকে ক্ষমতাসীনরা শ্রেণির আবর্তে নিয়ন্ত্রণে নিলো।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রয়াত নুরুল হুদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “একাত্তর সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, কিন্তূ সমাজের পরিবর্তন আসেনি। সমাজতন্ত্রের ধারার বিজয় না হলে এই পরিবর্তন আসবে না।’’

তিনি বলেন, “নুরুল হুদা মির্জা কাদের বক্স বুঝে ছিলেন, জাতীয়তাবাদের রাজনীতি দিয়ে এ দেশের সমাজের পরিবর্তন আসবে না। এজন্য সমাজতন্ত্রীদের এগিয়ে আসতে হবে।’’

যুক্তফ্রন্টে বামপন্থিদের ব্যর্থতা ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর থেকে বামপন্থিদের পৃথক হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুক্তফ্রন্টে যদি ভাসানীর অধীনে বামরা থাকতো, তাহলে তাদেরই বিজয় হতো। ’৫৪ সালে বামদের এটা বড় ব্যর্থতা ছিল। ’৬৯ সালেও কমরেড আবদুল খালেক, কমরেড তোহার মতো বামরা ভাসানীকে ত্যাগ করে চলে যান, এটাও তাদের ভুল ছিল। কারণ ১৯৬৯ সালেই ভাসানী প্রথম স্বাধীনতার কথা বলেছেন।”

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রয়াত নুরুল হুদার জীবনাদর্শ নতুনদের অনুসরণের আহবানও জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “তিনি সম্পর্কে আমরা চাচা। আমি ছটু চাচা বলে ডাকতাম। তার কাছেই আমার শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। আমি সব সময় দেখেছি, কিভাবে সমাজ পরিবর্তন করা যায়, কৃষক, তাঁতীসহ শোষিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়েই তিনি সব সময় ভাবতেন।’’

তিনি বলেন, “ছটু চাচা প্রায়ই্ আমাকে বলতেন, এদেশের তরুণরা কোথায়? তারা কেন জেগে উঠেছে না। আজ দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। এই সময়ে ছটু সাহেবের মতো মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল।’’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আবকর খান রনো, প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মহসিন শাস্ত্রপানি, প্রবন্ধকার এহসানুল কবির, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes