রবিবার , ২৭ মে ২০১৮
শিরোনাম

ইরাকে ১৬ বাংলাদেশি অপহৃত!

iraq-bangladesh৭১বাংলা : ইরাকে কমপক্ষে ১৬ জন বাংলাদেশিকে একটি ক্যাম্প থেকে অপহরণ করে স্থানীয়রা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ১৬ জনসহ ১৮০ জন শ্রমিক সমস্যাসঙ্কুল ইরাকের নাজাফ শহরের একটি ক্যাম্পে কোনো ধরনের চাকরি-বাকরি ছাড়া আটকা পড়ে আছেন।

অবশ্য সংঘর্ষকবলিত মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সম্ভবত তাদেরকে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান দেশে পাঠানোর জন্য অন্যত্র নিয়ে গেছে।

ক্যাম্পের অন্য শ্রমিকদের দাবি, তাদের চাকরিদাতা আবু তোরাব হাউজিং প্রকল্পের ম্যানেজার হায়দারের নেতৃত্বে কিছু লোক স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে ওই শ্রমিকদের জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

‘‘ইরাকিরা একটি মাইক্রোবাসে এসে ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকসহ আমাদের ১৭ জন সহকর্মীকে তুলে ধরে নিয়ে যায়, তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে তখন তারা বলছিল।’’ আটকেপড়া শ্রমিকদের মধ্যে আব্দুল লতিফ নামে একজন ডেইলি স্টারকে মঙ্গলবার দুপুরে টেলিফোনে এ তথ্য জানান।পরে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মামুনকে ছেড়ে দেয়া হয়, তিনি জানান একজন ‘অপহৃত’ ফোন করে জানিয়েছে, তাদেরকে নাজাফের একটি স্থানে আটকে রাখা হয়েছে, এ শহরেই অন্য শ্রমিকরাও রয়েছেন।

তুরস্কের মালিকানাধীন আবু তোরাব হাউজিং প্রজেক্টে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালট্যান্টস লিমিটেড এসব শ্রমিককে ইরাকে পাঠায়।

লতিফ দাবি করেন, এজেন্সি যশোরের সিদ্দিকের ওপর ক্ষিপ্ত। কারণ তিনিই প্রথম বাংলাদেশ সরকার ও সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাদের এ দুরাবস্থার কথা প্রকাশ করেন। ওই ১৬ জন শ্রমিককে অন্য দেশে পাচার করা হতে পার বলে তিনি আরো আশঙ্কা করেন।

এদিকে যশোরের নয়ন, গাজীপুরের তামিম ও মুন্সীগঞ্জের খোকন নামে অপর তিন শ্রমিক ফোন করে তাদের অবস্থার কথা বর্ণনা করেন, যা লতিফের বক্তব্যকে সমর্থন করে।

১৬ জনের মধ্যে সিদ্দিক, ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ, শ্রমিক মামুন এবং ফরিদ ছাড়া বাকিদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সিদ্দিকের বাড়িতে তার ভাই জাবেদ আহমেদ জানান, সকালে তার ভাই ফোন করে তাদের আটকাবস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না আমার ভাইয়ের কপালে কী ঘটেছে। আমি তার স্ত্রী এবং আমার মা’কে এখনো বিষয়টি জানাইনি।”

ইরাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, রেজানুর রহমান খান ১৬ জন শ্রমিক অপহরণের অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। “যেহেতু তারা (১৮০ জন শ্রমিক) এখানে আর কোনোভাবেই থাকতে চায় না তাই যে প্রতিষ্ঠান এদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের সহায়তায় আমরা পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে পাঠাবার ব্যবস্থা করছি,’’ তিনি বলেন। সম্ভবত এরই ধারাবাহিকতায় ওই ১৬ জনকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

এদিকে মনিরুল ইসলাম নামে নাজাফ শহরে আটকেপড়া অপর একজন শ্রমিক গতকাল রাতে ফোনে জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদরুল আমিন তাদের ক্যাম্পে এসে তাদেরকে হুমকি দিয়ে গেছেন। ‘‘তারা বলেন, দেশে যেতে চাইলে আমরা যা বলি সেভাবে চলতে হবে, অন্যথায় কপালে অনেক দুর্ভোগ আছে’’, তিনি জানান।

গত মে মাসে ইরাকের দক্ষিণের প্রদেশ নাজাফের এই মরু শহরে যাওয়ার পর থেকে তারা খাদ্য, পানি ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে দেশে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

চাকরি দেয়ার কথা বলে এজেন্সি এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে চার লাখ টাকা করে নিয়েছে। কিন্তু ইরাকে কুখ্যাত ইসলামিক মিলিট্যান্ট স্টেটসহ বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মাঝে এই বাংলাদেশিদের কোনো চাকরির ব্যবস্থা করা যায়নি।
এদিকে তাদের তুর্কি চাকরিদাতা তাদেরকে কিছু না বলে পালিয়ে গেছে।

আটকেপড়া শ্রমিকরা চাকরি অথবা দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের চাকরিদাতা ও বাংলাদেশি এজেন্সিকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি বলে শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গত আগস্টে বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রথম এ বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর  ইরাকে বাংলাদেশি দূতাবাস ও প্রেরক এজেন্সি এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও তা সীমাবদ্ধ ছিল কিছু খাদ্য বিতরণের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে সে খাদ্যও ছিল অপ্রতুল।

এদিকে কয়েকজন অসহায় শ্রমিক পরিবারের অভিযোগ, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষ থেকে তাদের সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু না বলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সূত্র: ডেইলি স্টার

 

 

এমআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes