শনিবার , ২৬ মে ২০১৮
শিরোনাম

লম্পট চিকিৎসককে ৭০টি চড় দিলেন এক নারী

chor thapporএবার এক লম্পট চিকিৎসককে আধা ঘণ্টা ধরে গুনে গুনে ৭০টি চড় কষালেন এক নারী। ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এই ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। তবে এত দিন তা প্রকাশ হয়নি। মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টাইমসে প্রকাশিত হয় খবরটি।
সেখানে যা বলা হয়েছে, ডাক্তারের চেম্বারে হঠাৎ এক নারীর প্রবেশ। কোনো কথা নেই, সোজা চিকিৎসককে চড় মারতে শুরু করলেন তিনি। থামার প্রশ্নই নেই! আধা ঘণ্টা ধরে শুধু থাপ্পড় কষিয়ে গেলেন। সব মিলিয়ে মোট ৭০টি চড় খেয়ে ডাক্তার তথমত!
এরপর ওই চিকিৎসককে বাছাই করা কয়েকটি গালাগালি দিয়ে নারীর প্রস্থান। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে দিনের পর দিন যৌন লালসা মিটিয়েছেন ডাক্তার। ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করতেন। তারই শাস্তিস্বরূপ অভিযুক্ত চিকিৎসককে ৭০টি থাপ্পড়!
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের এই ঘটনা সামনে আসতেই রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গেছে। গত ২৮ অক্টোবরের এক সন্ধ্যা। ইন্দোরের এইচআইজি কলোনিতে নিজের বাড়িসংলগ্ন চেম্বারে রোগী দেখছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার অর্পিত চোপড়া। পুলিশের কাছে জমা পড়া ওই ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেদিন সন্ধ্যায় বসুন্ধরা শর্মা নামের বছর ৩৫-এর এক নারী হঠাৎ করে অর্পিত চোপড়ার ওপর চড়াও হন। আধ ঘণ্টায় টানা ৭০টি চড় মারেন ওই চিকিৎককে। একই সঙ্গে কলার ধরে টেনে জামা ছিঁড়ে দেন ডাক্তারের। অর্পিত চোপড়া নামে ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ জানিয়ে থানায় এফআইআর দায়ের করেন বসুন্ধরা দেবী।
পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন অর্পিত চোপড়া। তার পর থেকে বারবার যৌনলালসার শিকার হন তিনি। কিন্তু বিয়ের কথা বললেই ডাক্তার এড়িয়ে যেতেন।
যদিও ৭০টি থাপ্পড় খাওয়া ওই চিকিৎসক পুলিশের কাছে ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। মার খাওয়ার ১০ দিন পর গত ৭ নভেম্বর বসুন্ধরা দেবীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান অর্পিত চোপড়া। সেদিন সন্ধ্যার ভিডিও ফুটেজটিও জমা দেন থানায়।
ডাক্তারের বক্তব্য, ‘বসুন্ধরা শর্মা আমার কাছে ২০১২ সালে তিন মাসের ট্রেনিংয়ের জন্য এসেছিলেন। তিন মাস শেষে একদিন সন্ধ্যায় আমি বসুন্ধরাকে ট্রেনিং ছাড়তে বলি। তখন বসুন্ধরা আমার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিই। এর পর থেকেই বসুন্ধরা ফোন করে আমায় উত্ত্যক্ত করা এবং হুমকি দিতে শুরু করেন।’
তাহলে ২৮ অক্টোবর হেনস্তা হওয়ার পর পুলিশকে এত দিন পরে কেন জানালেন ওই চিকিৎসক? অর্পিত চোপড়ার বক্তব্য, ওই নারীর মারে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। কানে ভালো করে শুনতে পাচ্ছিলেন না। তাই চিকিৎসার জন্য অভিযোগ জানাতে দেরি হয়েছে। বসুন্ধরা শর্মার বিরুদ্ধে মহিলা কমিশনেও অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
গোটা ঘটনায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে পুলিশও। কে মূল দোষী, তা খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes