সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

যেভাবে চলছে কামারুজ্জামানের পরিবার

kamarujjaman familyমাঝারি আকারের একটি ড্রয়িং রুম। এক পাশে অতি সাধারণ সোফা সেট। তিন দিকে বুক সেলফ। সেলফে রয়েছে গাঁদাগাঁদা বই। ভেতরে জায়গা না হওয়ায় অসংখ্য বই সেলফের উপরে ও ফ্লোরে সাজিয়ে রাখা। রুমের পশ্চিম পাশে একটি টেলিভিশন ও কম্পিউটার।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বাসার একটি খণ্ডচিত্র এটি।

মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের সাংবাদিক প্লট বলে পরিচিত সাংবাদিক কলোনিতে তার বাসা। বাসায় গিয়ে বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামীকে ফোন করে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েনমেন্টের কথা জানালে লোক পাঠিয়ে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় আমাদের।

আলাপচারিতায় উঠে আসে কামারুজ্জামানের পরিরবারের নানা বিষয়।

ওয়ামী বলেন, বাবার রায় হওয়ার পূর্বে রাজনীতির পাশাপাশি পেশায় তিনি ছিলেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদক। মা কলাম লেখক।

২০১০ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হন কামারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক কলোনিতে সাংবাদিকদের জন্য প্লট বরাদ্দ হলেও আমার বাবা সেটা পাননি। পরে ১৯৯৮ বা ১৯৯৯ সালে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর কাছ থেকে এই প্লটটি কিনে নিয়ে বাড়ি করি আমরা। সেই থেকে এখানেই বসবাস করছি। দ্বিতীয় তলায় থাকে আমাদের পরিবার।’

 

তিনি জানান, তারা তিন ভাই দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। এছাড়া তার বাবার রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদকের বেতন পেতেন। এখন মাঝে মাঝে দল থেকেও সহযোগিতা করা হয়।

বাসা ভাড়া থেকেও কিছু টাকা আসে। সেটা ব্যাংক ঋণ পরিশোধেই চলে যায়।

ওয়ামী কথা বলেন জেলে যাওয়ার পর থেকে মামলার খরচের বিষয়েও। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর যে সকল নেতা গ্রেপ্তার হন, তাদের প্রত্যেকের খরচ বহন করে দল। আমার বাবার বেলায়ও তাই হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানি রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে না। সম্পূর্ণ কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়ে আমার বাবার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা কেউ মানসিকভাবে দুর্বল নই, ভেঙ্গে পড়িনি। বরং জুলুমের শিকার একজন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীর ছেলে ও পরিবারের সদস্য হয়ে আমরা সবাই গর্বিত।’

কিছু মিডিয়া তার বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রচার করার জন্য ক্ষোভও প্রকাশ করেন ওয়ামী।

তিনি বলেন, ‘দৈনিক প্রথম আলো আমাকে উদ্ধৃত করে মিথ্যা খবর প্রকাশ করেছে। পরে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি ও  ওই রিপোর্টারকে টেলিফোনে জানিয়েছি। তিনি আমাকে প্রতিবাদ দিতে বললে আমি প্রথমে মেইল ও পরে কাগজের কপি পাঠাই। তারপরও তারা সেটাকে ছাপায়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম তাদের সম্পাদকীয় নীতি হল- আমাদের বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা। এ কারণে আমি পরে আর কিছুই বলিনি।’

কামারুজ্জামানের পরিবার

কামারুজ্জামানের ৫ ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী। এসএসসি ও এইচএসসি পড়েছেন মগবাজার ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুলে অ্যান্ড কলেজে। পরে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে মিডিয়া অ্যান্ড কমিনিকেশনে অনার্স ও সুইডেনের মিড সুইডেন ইউনিভার্সিটিতে একই বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন। কর্মরত ছিলেন দিগন্ত টেলিভিশনের রিসার্চ এক্সিকিউটিভ হিসেবে। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মামার ব্যবসা দেখাশুনার পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইনের কাজ করেন।

কামারুজ্জামানের মেজো ছেলে হাসান ইকরাম একই স্কুল থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়শোনা করে বর্তমানে সুইডেনের মালমো ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত আছেন।

সেজো ছেলে হাসান জামান ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি ও বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মালয়েশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স ও সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেন।

৪ নম্বর ছেলে হাসান ইমাম ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল থেকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ করেছেন। পরে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করে এখন ঢাকার একটি কোম্পানিতে চাকুরিরত আছেন।

ছোট ছেলে আহমদ হাসান জামান ধানমন্ডির মাস্টার মাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে এ লেভেল এবং ও লেভেল করে মালয়েশিয়ার কার্টান ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স করেছেন, এখনও মাস্টার্সে ভর্তি হননি।

এছাড়া রয়েছে এক মেয়ে আতিয়া নূর। মিরপুরের মনিপুর স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ছে সে।

পাঁচ ছেলের মধ্যে মেজো ছেলে হাসান ইকরাম বিয়ে করেছেন তাদের নিজ জেলা শেরপুরে। স্ত্রীকে নিয়ে এখন সুইডেন থাকেন।

সেজো ছেলে হাসান জামান বিয়ে করেছেন ঢাকায়। স্ত্রী নিয়ে থাকেন মালয়েশিয়ায়। এছাড়া অন্য কোনো ছেলে এখনও বিয়ে করেননি।

কামারুজ্জামানের লেখা বই

তিনি জানান, কামারুজ্জামান কারাগারে থাকাকালীন সর্বশেষ বই লিখেছেন তুরস্কের ইসলামী আন্দোলনের অগ্রদূত বদিউজ্জামান সাইয়্যেদ নুরসিকে নিয়ে। বইটির নাম ‘বদিউজ্জামান সাইয়্যেদ নুরসি এবং তুরস্ক’।

এছাড়া জেলে যাওয়ার আগে কোরআন অধ্যয়ন সহায়িকা, অধ্যাপক গোলাম আযমের সংগ্রামী জীবন, আধুনিক বিশ্বে ইসলামী বিপ্লব, আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ ও ইসলাম, নতুন বিপ্লবের পদধ্বনি, ইসলামী নেতৃত্ব, ইসলাম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি, আধুনিক বিশ্বে ইসলামী জাগরণ, মাওলানা মওদূদীর চিন্তধারার প্রভাব শিরোনামে বই লিখেছেন কামারুজ্জামান, যাকে জামায়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার অগ্রগামী বলে ধারণা করা হয়।(আরটিএনএন)

 

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes