সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

টুকুর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

Tuku-dudok৭১ বাংলা: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অবশেষে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিনকে।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া টুকুর হলফনামা ও দুদকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী এ অনুসন্ধান চালাবে দুদক। প্রায় ১০ মাস সময় ধরে অভিযোগটি যাচাই-বাছাই শেষ করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের হলফনামায় টুকুর দুই ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রীর কোনো সম্পদ ছিল না। পাঁচ বছর পর তারা কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।

দুদক জানায়, গত পাঁচ বছরে টুকু অবৈধভাবে ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকা এবং বড় ছেলে ভিওআইপি ব্যবসায় কর ফাঁকি দিয়ে ১৪৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা অর্জন করেছেন। ২০০৮ সালে টুকুর মোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, টুকু মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার সম্পদের মালিক।

টুকুর দেয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৮ সালে টুকুর স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার সম্পদ ছিল ৬১ লাখ ৭২ হাজার টাকার। ২০১৩ সালে তার স্ত্রীর সম্পদ এক কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকার।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, টুকুর ছোট ছেলে নাসিফ সামস্ আয়কর বিবরণীতে মোট ৮২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছে। তবে টুকু তার হলফনামায় তার ছোট ছেলের নামে কোনো সম্পদের হিসাব উল্লেখ করেননি। টুকুর বড় ছেলের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন আয়কর বিবরণীতে এক কোটি ১৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩০ টাকা দেখিয়েছেন। টুকু তার হলফনামায় এ সম্পদের কথাও উল্লেখ করেননি।

২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু আইন পেশা থেকে দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা আয় করেছেন। ওই সময় তার নগদ ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া সোনা ১০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা এবং ৯ লাখ টাকার অকৃষি জমি ছিল। অর্থাৎ ২০০৮ সালে টুকুর মোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকার সম্পদ ছিল।

টুকুর স্ত্রী বেগম লুৎফুন নেছার ২০০৮ সালে মোট ৬১ লাখ ৭২ হাজার টাকার সম্পদ ছিল। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য ২০ লাখ টাকা, নগদ আট হাজার টাকা, ব্যাংকে জমাকৃত ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১৪ হাজার টাকার সোনা রয়েছে। অর্থাৎ ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোট ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের মালিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুসারে, টুকু মোট দুই কোটি ৪০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৮০ হাজার টাকা, বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ও অন্যান্য ভাড়া দুই লাখ ৮৩ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত পাঁচ লাখ ৩৯ হাজার ১২১ টাকা, নগদ তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডিপিএস এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৬০ টাকা, এফডিআর ৪৫ লাখ ৪১ হাজার ৫৪৬ টাকা, মোটরগাড়ি ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ টাকা, ১০ ভরি সোনা, ১০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, পিস্তল একটি ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা, পাঁচ কাঠা অকৃষি জমি ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৯৮ টাকা, পাবনা সদরে একটি দালান ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দানসূত্রে প্রাপ্ত বসতভিটা ২৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

সূত্র মতে, ২০১৩ সালের হলফনামায় প্রদর্শিত পাবনা সদরে বিদ্যমান বাড়িটি দু’তলা থেকে পাঁচ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির প্রকৃত মূল্য এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। যার দাম তিনি হলফনামায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি এক কোটি ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।

এ ছাড়া বেড়ার বৃশালিখায় তার বসত ভিটায় প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন বিলাসবহুল দ্বিতল প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন। এ বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে তিনি এক কোটি ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

সূত্র জানায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট ১৫ কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ৫১১ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যরা নামে-বেনামে পঞ্চগড় জেলায় ৩৬ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। ডিএসই, ডিএসসি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।

এআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes