শুক্রবার , ২৫ মে ২০১৮
শিরোনাম

আদালত থেকে বের করে দেয়া হলো বার্গম্যানকে

bargmen৭১বাংলা: রায়ের পর আদালতের এজলাসে বসে মোবাইল ফোন হাতে নেয়ায় ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে এজলাস থেকে বের করে দিলেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সোমবার আপিল বিভাগে কামারুজ্জামানের রায় দেয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় ঘোষণা শেষ হলে আইনজীবীদের সারিতে বসা ডেভিড বার্গম্যান মোবাইল ফোন হাতে নেন। এ সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ডেভিডকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ইউ জেন্টলম্যান, মোবাইল ব্যবহার করছেন কেন? আপনি আগেও মোবাইল ব্যবহার করেছেন। আগেও আপনাকে এ বিষয়ে বলা হয়েছিলো। আপনি দাঁড়ান।’

তখন বার্গম্যান দাঁড়িয়ে বলেন, আমিতো মোবাইলে কথা বলিনি। এরপর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এটা আদালত কক্ষ। এখানে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষেধ, আপনি কি জানেন যে প্রবেশ নিষেধ? এর জবাবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন বার্গম্যান।

এরপরও তিনি দাঁড়িয়ে থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘গেট আউট’। পরে ডেভিড বার্গম্যান আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

প্রসঙ্গত, ডেভিড বার্গম্যান ড.কামাল হোসেনের মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেনের স্বামী।

এ বিষয়ে বার্গম্যান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘অভ্যাসবসত আমি আমার মোবাইলটা হাতে নিয়েছিলাম। এরপর আকস্মিকভাবে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি মানিক এটা করার জন্য আমার দিকে তাকিয়ে চেচিয়ে উঠলেন। বললেন, আদালতে ফোন নিষিদ্ধ। তিনি বললেন, এর আগেও আমাকে সাবধান করে দেয়া হয়েছিল। আমি বললাম, ইওর অনার, এর আগে আমাকে সাবধান করা হয়নি। এরপর আমাকে বলা হলো যে বাইরে একটি নোটিশ আছে। এরপর আমাকে আদালত ছেড়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়া হলো।’

বার্গম্যান লিখেছেন, ‘হায় কপাল, আমার অবস্থা যেন খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। আমি যখন বের হয়ে আসছিলাম তখন আইসিটির প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা বললেন, সেখানে কী হয়েছিল। আমার পকেটেও তো মোবাইল ফোন ছিল।’

‘আমার মনে হয় প্রত্যেকের পকেটেই মোবাইল ফোন ছিল। কারণ গার্ডরা দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সময় কারো মোবাইল চেক করে না। আমি নিশ্চিত না যে কত লোক এই নোটিশ সম্পর্কে জানে অথবা মানে। যাই হোক, পকেটে মোবাইল নিয়ে আমি বোকা বনে গেলাম!’, লিখেছেন বার্গম্যান।

উল্লেখ্য, আদালত অবমাননার অভিযোগে ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা বিচারধীন রয়েছে।

এছাড়া ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-১, ইন অ্যাবসেন্সিয়া ট্রায়াল অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডিকোয়েন্সি’ এবং ‘আজাদ জাজমেন্ট অ্যানালাইসিস-২, ট্রাইব্যুনাল অ্যাজাম্পশন’ শীর্ষক লেখা সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তার নিজের ব্লগে প্রকাশ করেন।

এতে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়।

 

৭১বাংলা/এস এইস

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes