সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

টানা হরতালে লণ্ডভণ্ড পরীক্ষাসূচি

৭১বাংলা: জামায়াতে ইসলামীর ডাকা একের পর এক হরতালে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী।

jsc

এক সপ্তাহের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষাসহ কমপক্ষে ১১টি পরীক্ষা পিছিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে এসে পরীক্ষাগুলো নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসন।

 

হরতালের কারণে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরুই করা যাচ্ছে না।

 

ইতিমধ্যে প্রথম দুই দিনে চারটি পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতিও থমকে গেছে।

 

পিছিয়ে যাওয়া পাবলিক পরীক্ষা বন্ধের দিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বার্ষিক পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট সবাই।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার হরতাল পালন করছে জামায়াত।

 

দলটির আরেক নেতা ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে ৬ নভেম্বর হরতাল আহ্বান করা হয়েছে।

 

এছাড়া সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন। রায় বিপক্ষে গেলে বুধবারও হরতাল দেয়ার কথা জানিয়েছিল দলটি। সে হিসাবে বুধবারও হরতাল দেয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

এর ফলে এক সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষা কার্যক্রম।

 

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক পরীক্ষার্থীর মা শাহানা বেগম জানান, হরতালের আগে তাঁর সন্তানের প্রস্তুতি ভালো ছিল।

 

কিন্তু এখন আর পড়তে চাচ্ছে না, অন্যমনস্ক হয়ে গেছে। এতে বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে বলে একাধিক অভিভাবক তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান।

 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, হরতালে শিক্ষায় ‘শিডিউল বিপর্যয়’ দেখা দিয়েছে। স্কুলের বিভিন্ন পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা—সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

 

এতে অভিভাবকরা যেমন উদ্বিগ্ন, তার চেয়ে বেশি সমস্যা হলো শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়া। এর পরিণতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা কঠিন।

 

কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় এর প্রেক্ষিতে রাশেদা কে চৌধূরী জানান, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কঠিন রাজনৈতিক অঙ্গীকার দরকার।

 

শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়, এমন কর্মসূচি দেবেন না বলে রাজনৈতিক নেতাদের অঙ্গীকার নেওয়া দরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ।

 

এর বাইরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে আরও প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন।

 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের এখন পরীক্ষার সময়।

 

রবিবার থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে তা পিছিয়ে ৭ নভেম্বর এবং সোমবারের পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর হওয়ার কথা।

 

৬ নভেম্বরের পরীক্ষার দিনও হরতাল রয়েছে। এদিন জেএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও জেডিসির আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা হওয়ার কথা। ফলে এই দুই পরীক্ষায় প্রায় ২১ লাখ পরীক্ষার্থী বিপদে পড়েছে।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে হরতালের কারণে বৃহস্পতিবারের পরীক্ষাও পেছানো হচ্ছে। আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 

জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরীক্ষার মৌসুমে হরতালের কারণে বিরাট বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।

 

জামায়াতে ইসলামী অযৌক্তিকভাবে হরতাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ করছে। আমি জামায়াতকে হরতাল বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।

 

হরতালে পরীক্ষা হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘জামায়াত শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ করছে। কিন্তু আমরা তো শিক্ষার্থীদের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মুখে ফেলে দিতে পারি না। এ জন্য পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করতে হচ্ছে।’

 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা।

 

এই দুই পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী প্রায় ৩০ লাখ। তারাও পড়েছে বিপাকে।

 

সেশনজটে জর্জরিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়েছেন আরও বেশি সমস্যায়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ।

 

হরতালের কারণে ইতিমধ্যে সম্মান প্রথম বর্ষের তিনটি, চতুর্থ বর্ষের একটি ও ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশনের একটি পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও কলা অনুষদেরভর্তি পরীক্ষাও পিছিয়ে গেছে।

 

জানতে চাইলে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির বলেন, হরতালের কারণে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের সমঝোতা করে এই হরতাল বন্ধ করা উচিত।

 

৭১বাংলা/এস এইস

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes