শনিবার , ২৬ মে ২০১৮
শিরোনাম

কেন ক্রিকেট ছাড়তে চেয়েছিলেন অধিনায়ক শচীন ?

Sachin Tendulker৭১ বাংলা ক্রিড়া ডেস্ক: অনবদ্য সব কীর্তি গড়ে যিনি ‘ক্রিকেট ইশ্বর’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সেই শচীন টেন্ডুলকারই কিনা মধ্য পথে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন ক্রিকেট! হ্যাঁ, এটাই সত্যি।  শচীন টেন্ডুলকারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা ২৪ বছরের দীর্ঘ এক বিজয় গাঁথার ইতিহাসে ভরা।  এতটা সময়ে ব্যর্থতার কোন আচড় থাকবে না তা কী হয়।  ক্রিকেট ইশ্বর হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি তো রক্তে মাংসে গড়া সাধারণ মানবই।  আর সেকারণেই এমন হাতাশা পেয়ে বসেছিল তাকে।  ভারতীয় দলের অধিনায়ক থাকাকালে টানা হার ও ব্যর্থতা তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল।  সম্প্রতি শচীন টেন্ডুলকারের আত্মজীবনী ‘প্লেইং ইট মাই ওয়ে’ তে সেই অজানা গল্পই উঠে আসলো।

শচীন টেন্ডুলকারের ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে একবারই অধিনায়কত্বের দায়িত্ব উঠেছিল তার কাঁধে।  তখন তিনি ভারতীয় দলের অদক্ষতা ও ব্যর্থতায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ছাড়তে চেয়েছিলেন ক্রিকেট।  ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ২৫ টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।  যার মধ্যে মাত্র চার ম্যাচে জয় এসেছিল।  বাকি নয়টিতেই হার আর ১২ ম্যাচে ছিল ড্র।  সেই সময়ের হতাশা ফুঁটে উঠেছে ভারতীয় কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের বিবরনীতে, ‘আমি হার ঘৃণা করি।  দলের এই ব্যর্থতায় আমার নিজেকে দায়ী মনে হচ্ছিল।  সবচেয়ে বড় কথা আমি জানতাম না কীভাবে এটা পরিবর্তন করতে পারি।  আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করছিলাম।’

সেসময় সহধর্মিনী অঞ্জলীর কাছে মনে ভয়ের কথাটা তখন বলেছিলেন তিনি।  ‘আমি তখন ভয় পেয়েছিলাম, মনে হয়েছিল আমার এর বেশি কিছুই করার নেই।  জয়ের খুব কাছাকাছি থেকে ফেরাটা আমাকে হতাশ করেছিল।  আমার মনে হচ্ছিল আমি একশোভাগ দিয়ে ফেলেছি।  আর ০.১ ভাগও দেয়া সম্ভব না। ’ এভাবেই সেই সময়ের স্মৃতি চারণ করেছেন শচীন।

সে সময় প্রচন্ড হতাশা ও চাপ তাকে খেলা ছেড়ে দিতেও উদ্বুদ্ধ করেছিল।  আর খেলা ছেড়ে দেয়ার ভাবনার কথাও উঠে এসেছে তার লেখনীতে, ‘এই ব্যর্থতা আমকে খুব আঘাত করছিল।  এই আঘাত থেকে উত্তরণেও সময় লেগেছিল অনেক।  এমকি আমি খেলা ছেড়ে দেয়ার কথা ভেবেছিলাম এক মনে।’

অধিনায়কত্বের সবচেয়ে অন্ধকার সময়টার কথাও বিস্মৃত হননি ব্যাটিং মায়েস্ত্রো।  তিনি ১৯৯৭ সালের ৩১ মার্চকে ক্রিকেটে তার সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্ল্যেখ করেছেন আত্মজীবনীতে।  সেবার ১২০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতীয় দল থেকে গিয়েছিল মাত্র ৮১ রানেই, ‘সেদিন ডিনারের সময় আমি ওয়েস্ট ইন্ডজের এক বয়ের ভবিষৎবানী নিয়ে জোক করেছিলাম।  সে বলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতবে।  আমি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম।  কিন্তু আমরা ৮১ রানে অল আউট হয়ে যাই।  ভিভিএস লক্ষণ ছাড়া কেউ দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি সেদিন।  আমি ৪ রানেই বাউন্সার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হই।  এটা আমার দেখা সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং। ’

এআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes