রবিবার , ২৭ মে ২০১৮
শিরোনাম

বিএনপির প্রচারণা তুঙ্গে কোথাও নেই জামায়াত

Bnp_Jamat৭১বাংলা : প্রায় পাঁচ বছর পর উত্তরাঞ্চলের জেলা নাটোর আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এবার এমন সময় তিনি এই এলাকায় আসলেন যখন নানামুখি চাপে বিএনপি অনেকটা কোনঠাসা। জোরদার করতে পারছে না সরকার বিরোধী আন্দোলন। তাই নতুন করে আন্দোলনে নামার আগে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে তার এই গণসংযোগ। তাইতো দলের প্রধানের কর্মসূচিকে সফল করতে গত কিছু দিন ধরে এই এলাকার নেতাকর্মীদের চোখে ঘুম নেই।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারস খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জেলা সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা নাটোর শহর। একটু পর পর চোখে পড়ছে তোরণ। আলোকসজ্জাও করা হয়েছে শহরজুড়ে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ পাড় হওয়ার পর থেকেই মহাসড়কের দুই পাশ নানা রঙের বাতি, কাপড়, জাতীয় ও দলীয় পতাকা দিয়ে সাজিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তবে কোথাও নেই জামায়াত।দলটির নেই কোনো তোরণ, দেখা যায়নি কোনো ফেস্টুন।

নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জামায়াতের ব্যাপক প্রভাবের কথা বলা হলেও  কয়েকটি স্পটে দলের জেলা আমীর অধ্যাপক মো. ইউনুস আলীসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তি চেয়ে দেয়ালে সাটানো পোস্টার ছাড়া কিছুই দেখা যায়নি।

এছাড়া জোটের শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের ছবি দিয়ে বেশ কিছু স্থানে পোস্টার ও ফেস্টুন চোখে পড়েছে।

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার নীলফামারী সফরে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের সৌজণ্যে অসংখ্য ব্যানার, তোরণ, ফেস্টুন চোখে পড়েছে।এতে জুড়ে দেয়া হয়েছিল মানবতা বিরোধী অপরাধে দলের আটক নেতাদের মুক্তির দাবি। মাঠেও উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে নাটোরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ গোটা শহরে কোথাও দলটির একটি ব্যানার ফেস্টুনও দেখা যায়নি।

শনিবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নাটোরের স্থানীয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন ।

এরআগে সকালে তিনি ঢাকা থেকে রওনা দিবেন বলে জানা গেছে। আবার বিকেলে কর্মসূচি শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।

এদিকে জোট নেত্রীর জনসভায় জামায়াতের এমন অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, আমীরসহ জেলার প্রথম সারির নয়জন নেতা এই মুহুর্তে কারাগারে। সে কারণে অনেকটা চাপে আছে দলটি।

এছাড়াও সম্প্রতি একটি মিছিলে বাধা দেয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের ওপর জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের হামলা ঘটনা ঘটে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়। এরপর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক চলছে।

এছাড়া নাটোরের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু অনেকটা জামায়াতবিদ্বেষী নেতা হিসেবে পরিচিত।তার কারণেও দলটি কোনঠাসা অবস্থায় আছে।

তবে স্থানীয় জামায়াতের সূত্রে জানা যায়, প্রচারণায় না থাকলেও সমাবেশে বিপুল সংখ্যক উপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের শক্তির জানান দেয়া হবে।

এদিকে জনসভার মাঠে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আগত নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা আলাদা করে স্থান নির্ধারণ করে দেয়া আছে। জামায়াতের জন্যও জায়গা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত জায়গায় সংকুলান হবে না বলছে দলটি।

এছাড়া তৈরি করা হয়েছে ৬০ ফুট প্রস্থ ও ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সুবিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চে একসঙ্গে ৩০০ নেতাকর্মীর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয়ভাবে আন্দোলন জোরদার না করায় বিগত আন্দোলনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।তবে এবার দলকে শক্তিশালী করে এবং জনসম্পৃক্ততা তৈরি করে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করা হবে। সে কারণে এখনই কর্মসূচির দিকে যেতে চাচ্ছে না দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া নাটোরের জনসভা থেকে কোনো কর্মসূচি দিবেন না।তবে অন্যান্য জনসভার মতো এবারও তিনি আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাবেন।পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলনের কিছু নির্দেশনাও থাকতে পারে বিএনপি প্রধানের বক্তব্যে।

সবশেষ সেনাসমর্থিত সরকারের সময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে ২০০৮ সালে ১৮ ডিসেম্বর নাটোর এসেছিলেন খালেদা জিয়া।

 

 

এমআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes