সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

গ্রেফতার আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না জামায়াত-শিবিরের

Jamat_Shibir৭১বাংলা : গ্রেফতার আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না জামায়াত-শিবিরের। নেতাকর্মীরা স্বাভাবিক আবস্থায় ফিরে আসলেই শুরু হয় পুলিশের অভিযান গ্রেফতার। গত এক সপ্তাহে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের ৩৬৩ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। দলীয় সূত্র থেকে এ সংখ্যা জানা যায়।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঈদের পর রংপুর, লালমনিরহাট, সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক’শ নেতা-কর্মী গ্রেফতার হওয়ায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রায় মাসখানেক গ্রেফতার অভিযান না হওয়ায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর দিন থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সারাদেশে ৩৬৩ জন নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।

বুধবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী বিভাগের আমির আতাউর রহমানসহ ৩৮ নেতা-কর্মীকে  আটক করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিনে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেতসহ জামায়াতের ১৬ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। নাটোরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে পুলিশ।

সাতক্ষীরায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তালা উপজেলার ৭ নং ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম ফারুক, পাটকেলঘাটার কুমিরা ইউনিয়নের লাউড়িপাড়ার আবু মুসা, এছাড়া বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে  ৬১ জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

কুড়িগ্রাম থেকে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গাইবান্ধায় পাঁচ শিবির নেতা- কর্মীকে আটক করছে পুলিশ। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শোভাগঞ্জ থেকে দুই শিবিরকর্মীকে আটক করছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির মুক্তিযোদ্ধা এ এস এম নুর নবী দুলালসহ পাঁচ জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। একই দিনে শেরপুর শহরের চাপাতলী এলাকায় জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফরহাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়ায় সোমবার সকাল ছয়টা থেকে শুরু করে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ১৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ঢাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ ফোরাম নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঈদের আগে গ্রেফতার হয়েছেন শিবিরের সাবেক দুই কেন্দ্রীয় সভাপতি সিলেট মহনগরীর আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। কেন্দ্রীয় ও জেলাপর্যায়ের শীর্ষ নেতারা আটক হওয়ায় নেতা-কর্মীদের  আতঙ্ক আরো তীব্র হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদের পর কয়েক দিনে আটক হয়েছেন আত্মগোপনে থাকা দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতাকর্মী। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্তির সময় আটক হয়েছেন শিবিরের আরেক সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ফখরুদ্দিন মানিক। নতুন জামিনের আবেদন করতে গিয়ে জেলে গেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের যে মোবাইল নম্বর চালু ছিল শফিকুল ইসলাম মাসুদ আটক হওয়ার পর তা বন্ধ করে নতুন নম্বর নিয়েছেন অনেকেই।

নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে নেতাদের অনেকেই অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। দুই একজন ছাড়া তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। তবে এদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে স্কাইপ।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ সূত্রমতে, ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন চলাকালে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের পাঁচ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩৩ হাজার মামলা দেয় পুলিশ। সম্প্রতি সারা দেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানায় দলের প্রচার বিভাগ। সামনের আন্দোলন আতঙ্কেই সরকার এই অভিযান চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দলের নেতারা।

গ্রেফতার প্রসঙ্গে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সরকার শক্তির জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যেই সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেই দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”

জামায়াতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে জামায়াত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩০ হাজার মামলা হয়েছে। আর নির্বাচনের পরে হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার। তাও আগের আন্দোলনের জেরে। নির্বাচনের আগে ৫০ হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন বলে দাবি করছে জামায়াত।  আর নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ১৩ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ বলেন, “সরকার রাজনৈতিকভাবে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যেই গ্রেফতার করছে। এর মাধ্যমে সরকারের স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট চরিত্রই অত্যান্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই সারা দেশে আবার গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে।”

 

 

এমআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes