সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

মীর কাসেম আলীর রায় আগামী রোববার

mir kashem৭১বাংলা : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য ও  দিগন্ত মিডিয়ার করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলীর রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২  এ দিন ধার্য করেন।

গত ৪ মে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখে মামলাটি (সিএভি) ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

মীর কাশেম আলীর পক্ষে তার আইনজীবী  ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ আল আমিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর প্রসিকিউশন পক্ষ হতে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তার যুক্তি উপস্থাপন করেন।

অন্যদিকে  গত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষে জেয়াদ আল মালুম, সুলতান মাহমুদ সীমন ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি উপস্থাপন করেন

উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি যে কোন রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে আদেশ  দেন।

যুক্তি উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউশন দাবি করেছেন তারা মীর কাসেম আলীর অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করেছেন, “মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আশা করছেন তিনি খালাস পাবেন।”

গত বছরের ১৬ মে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমসহ প্রসিকিউশন টিম ১৪টি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করেন। এবং ২৬ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্তানান্তর করা হয়।

মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনিত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকী সব অভিযোগই আটক করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

১১ নাম্বার অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তর সালের ২৮ নভেম্বর শহীদ জসিমসহ ছয়জনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

১২ নাম্বার অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ তিনজনকে অপহরণ কওে নির্যাতন করা হয়। এরপর সেখান থেকে দুইজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়।

এ ছাড়া বাকি সবগুলো অভিযোগই আটক করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর মীর কাসেম আলীকে ১৪টি ঘটনায় অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে আনিত ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১১ ও ১২ নাম্বার অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগই অপহরণ করে নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।

গত বছরের ৬ মে মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৪টি অভিযোগে তদন্ত চুড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের জমা দেয়।

২০১২ সালের ১৭ জুন মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওইদিন বিকেলে মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ের (দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশন) থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এরপর ১৯ জুন মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মীর কাসেমের জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ৫ জুলাই তার বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ৮ জুলাই প্রসিকিউশনের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মীর কাশেম আলীকে সেভ হোমে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর পর্যায়ক্রমে তাকে সেভ হোমে নিয়ে দুইবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

 

এমআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes