শনিবার , ২৬ মে ২০১৮
শিরোনাম

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে শঙ্কীত বিএনপি

৭১ বাংলা: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত বিএনপি। ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এমন আভাস পেয়েছেন বিএনপি নেতারা। আর তাই নির্বাচন নিয়ে দলটির নেতারা সংশয়ে পড়েছেন।

ctg_city_corporation_election

কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের প্রভাবশালী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকার দলীয় কয়েকজন নেতার কাছ থেকে শুনেছি, ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হতে পারে। অবশ্য এটা এখনো চূড়ান্ত নয়, বিষয়টা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

গত ৭ আগস্ট চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সার্ভার স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক জানিয়েছিলেন, আরপিও অনুযায়ী দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন আগে কিংবা পরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী বছরের জুনের আগে এপ্রিল বা মে মাসে হতে পারে। গত জুন মাসে নির্বাচন কমিশন চসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১২ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের আবেদনও করে।

আগামী বছরের জুনের আগে চসিক নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, “এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতির কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। আগামী বছরের জুনের আগে নির্বাচন করার বিষয়টি আইনগত বাধ্যবাধকতার, সরকারের নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরাও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে এখনো  কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এম কে আনোয়ার বলেন, “চসিক নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার জানান, সময় যখন হবে, তখন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর নির্বাচন আদৌ হবে কি না, হলেও তাতে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।

ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও প্রশাসক নিয়োগে সরকারের চিন্তাভাবনার ব্যাপারে জানতে চাইলে এ বিএনপি নেতা বলেন, “সন্দেহ তো করছি, যা উড়িয়ে দেয়া যায় না।”

গত ১৭ জুন নির্বাচনের চার বছরপূর্তি হওয়ার পর আগামী মেয়র নির্বাচন মিশনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় নগর বিএনপি নেতাদের মধ্যে। মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা নেমে পড়েন প্রচারণায়। কিন্তু প্রশাসক নিয়োগের শঙ্কায় মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতাদের তৎপরতা হঠাৎ থমকে গেছে।

নগরের থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গেকথা বলে জানা গেছে, মাঠে মেয়র নির্বাচনের কোনো তৎপরতা নেই। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে কোনো-কোনো বিএনপি নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন।

চার বছরপূর্তির পর মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম আবারো ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে গত চার মাস আগে নগরের থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি আবার চুপসে গেছেন। তবে এ ব্যাপারে মেয়র মনজুর মুখ খুলতে নারাজ।

এবার মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীর তালিকায় আছেন জাসাসের (জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি কাজী আকবরও। এ বিএনপি নেতাও তলে তলে নগরের বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে তারও। তিনি বলেন, “সরকারদলীয় কয়েকজন নেতার কাছ থেকে জানতে পেরেছি, সরকার ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও প্রশাসক নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু এরপরও আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি এজন্য যে, সরকার পরিস্থিতি বুঝে যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে।”

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিগত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের ১৭ জুন। এতে আওয়ামী লীগের তিনবারের নির্বাচিত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অবিশ্বাস্যভাবে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাস্ত করেন বিএনপি প্রার্থী মনজুর আলম।

এআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes