সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

আজ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী

Jhenidah-BircereshTo-Hamidur-Rahman-Death-Day৭১ বাংলা: ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমানের ৪৩তম শাহাদত বার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধে এই মহান বীরের অবদানে বাংলাদেশসহ ঝিনাইদবাসী আজ গর্বিত। তার শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচির।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল।

১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দখালিশপুর (বর্তমানে হামিদনগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। তার বাবার নাম আক্কাস আলী মণ্ডল ও মায়ের নাম কায়েদুননেছা। অতি শৈশব থেকেই তাকে বাস্তবতার সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়েছে। দারিদ্রের নির্মমতা তাকে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করলেও জীবন সংগ্রামে পিছিয়ে থাকেননি তিনি।

১৯৭১ সালে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। ২৫ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে দেশপ্রেমিক হামিদুর রহমান দেশমায়ের মুক্তির স্বপ্নে যোগ দেন মুক্তি বাহিনীতে। অংশগ্রহণ করেন একের পর এক যুদ্ধে।

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাস। হামিদুর রহমান মুক্তি বাহিনীর সাহসী যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল এলাকায়। এখানে অবস্থিত ধলই বিওপিতে পাকিস্তানিদের শক্ত ঘাটি দখল করতে পারলেই মুক্ত করা যায় বিস্তৃর্ণ অঞ্চল। এ পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর ভোরে মুক্তিবাহিনী শুরু করলো আক্রমণ। চা বাগানের ভিতরে হামাগুড়ি দিয়ে হালকা মেশিনগান নিয়ে এগিয়ে গেলেন হামিদুর রহমান।

শত্রু ঘাটির কাছে গিয়ে তিনি হঠাৎ হামলা চালালেন তাদের উপর। নিহত হলেন প্রতিপক্ষের অধিনায়কসহ বেশকিছু পাকিস্তানি সৈন্য। শত্রু সৈন্যরা পরিস্থিতি শামাল দিতে শুরু করে পাল্টা আক্রমণ। এতে পিছ্পা না হয়ে হামিদুর রহমান প্রাণপণে লড়াই চালিয়ে গেলেন। হঠাৎ শত্রুসেনার একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হলো তার কপালে, মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন হামিদুর রহমান। ৫ দিন অবিরাম যুদ্ধের পর মুক্ত হলো ধলই বিওপি। হামিদুরের আত্মত্যাগ মুক্ত করলো বাঙালির মুক্তির পথ।

সেসময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ ঢাকায় এনে দাফন করা হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে।

এআর

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes