সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

চরিত্রহীন শিক্ষকের কাণ্ড: ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রশ্নপত্র সরবরাহ

হয়রানির শিকার ছাত্রীর অভিযোগপত্র শিক্ষকের কাণ্ড: ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রশ্নপত্র সরবরাহ

Jagannath-University৭১বাংলা জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লা আল-মমিনের বিরুদ্ধে তারই বিভাগের এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ট শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হুবহু হাতে লিখে সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গত ১৪ মে প্রভাষক আল-মমিনের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে ওই ছাত্রী বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী বলেন, ‘আল-মমিন স্যার বিগত এক বছর ধরে আমাকে মানসিকভাবে চরম হয়রানি করছেন। তিনি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আমাকে প্রায় রাতেই ফোন দেন, বিভিন্ন অশ্লীল ক্ষুদেবার্তা পাঠান, আমাকে তার সাথে বেড়াতে বলেন এবং তার সাথে একটি অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।’

আল-মমিনের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ল্যাব ক্লাসে তার সঙ্গে ‘অসভ্যের মতো’ আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন ওই ছাত্রী।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান দিপীকা রাণী সরকার বলেন, ‘আমরা আল-মমিনের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্য স্যারকে অবগত করেছি, তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। উপাচার্য দপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তের কাগজ আমার বিভাগে আসেনি।’

একই বিভাগের অধ্যাপক এবং জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল বালা  বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমরা শুনেছি এবং ওই শিক্ষককে সকর্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে বিভাগের চেয়ারম্যান আরো ভালো বলতে পারবেন।’

অভিযোগকারী ছাত্রী  বলেছেন, ‘আমি অভিযোগ করার পরও স্যারের স্ত্রী আমার বাসায় ফোন দিয়েছিলেন এবং আমার বাবা-মার কাছে আমার বিষয়ে নানা কিছু বলেছেন। এতে পরিবারের কাছে আমি ছোট হয়ে গিয়েছি। এছাড়া মমিন স্যারও একদিন আমার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং পরে বাসায় এসেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যেনো অভিযোগপত্র তুলে নেই সে কারণে স্যার আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়েছেন এবং ইনসাল্ট করেছেন।’

কিছু শিক্ষার্থী এবং বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক আল-মমিনের ‘চর’ হিসেবে কাজ করেন বলেও কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

বিভাগের অন্য ছাত্রীদের ওপরও আল-মমিনের কুনজর পড়েছে বলে  বলেছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহ
ছাত্রীকে হয়রানি ছাড়াও ফাইনাল পরীক্ষার আগে কিছু ঘনিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিজ হাতে প্রশ্নপত্র লিখে সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে প্রভাষক আব্দুল্লা আল-মমিনের বিরুদ্ধে।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার আগে PHY-2202 কোর্সের প্রশ্নপত্র নিজ হাতে লিখে তিনি তার কাছের কিছু শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করেছেন। বিষয়টি বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে গত ৭ জুলাই চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগপত্র দেয়।

আল-মমিনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান  বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টি তদন্তের জন্যও উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছি।’

দু’টি অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘দুটি অভিযোগের ভিত্তিতেই গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে বলে আমি অবহিত হয়েছি। আশা করি, দু’একদিনের ভেতরেই সব জানা যাবে।’

তবে তদন্ত কমিটির প্রধান বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফ-উল-আলমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমাকে চিনি? তুমি আমার সাথে সরাসরি দেখা করো। আমি ফোনে কিছু বলবো না।’

আব্দুল্লা আল মমিনের হাতে লেখা প্রশ্নপত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগপত্র শিক্ষকের কাণ্ড: ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব, প্রশ্নপত্র সরবরাহ

দুই অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লা আল-মমিনের সঙ্গে  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

৭১বাংলা/এস এইস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes