সোমবার , ২৮ মে ২০১৮
শিরোনাম

আবারও সরব হচ্ছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা

chatrodal৭১বাংলা : বিএনপির হাইকমান্ডের আশ্বাসে গত কয়েকদিন ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে দফায় দফায় বৈঠক করেও এ নিয়ে কোনো সমাধানে না পৌঁছায় আবারো বিক্ষোভে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পদবঞ্চিতরা। আগের চেয়ে এবার জোরালোভাবে আন্দোলনের করার কথাও বলা হচ্ছে পদবঞ্চিতদের পক্ষ থেকে।

গত ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই একটি পক্ষ ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। সঙ্গে বিএনপির ছাত্র ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদককে তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও চায় বিক্ষোভকারীরা।

শুরুতে এই বিক্ষোভ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। হয়েছিল ককটেল বিস্ফোরণ। তবে প্রথমে বিএনপির হাইকমান্ড বিক্ষোভকে আমলে নেয়নি।

জানা যায়, কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করলে বিএনপির একটি পক্ষ খালেদা জিয়াকে বুঝিয়েছিলেন দুই একদিন পর এটা থেমে যাবে। কমিটি দিলে সবসময় এমনটা হয়ে থাকে। এতে কোনো সমস্যা হবে না।

তবে পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে এ নিয়ে বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। সংঘর্ষ হয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে। হামলা হয় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ভাঙা হয় জিয়াউর রহমানের ম্যুরালের কাঁচের প্রাচীর। এরপর টনক নড়ে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ শীর্ষ নেতাদের।

পরে খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে জরুরি বৈঠক করেন। বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতাও ওই বৈঠকে ছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ইন্ধন যোগানোর অভিযোগ আছে।

পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভ থামানোর দায়িত্বে দেয়া হয় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও যুবদল নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ওপর। কিন্তু পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানে আসতে পারেননি এই দুই নেতা। এরমধ্যে শনিবার পুলিশের হাতে আটক হন আলাল।

যদিও মির্জা আব্বাস বলেছিলেন, “ছাত্রদলে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মতবিরোধ আছে। এটা এমন কোনো সমস্যা না যে সমাধান করা যাবে না।” তবে এখনো দৃশ্যমান কিছু হয়নি। এরমধ্যে খালেদা জিয়া নীলফামারী সফরে গেলে পদবঞ্চিতরাও তার সঙ্গে যান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া ছাত্রদল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের আগে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুকে সংগঠন নিয়ে কোনো কথা বলতে বারণ করেন। ঝামেলা এড়াতে আপাতত কয়েকদিন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে না গিয়ে দফতরের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে বলেছিলেন। কিন্তু শনিবার অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীসহ আলাল গ্রেফতার হওয়ার পর ছাত্রদলের দুই এই শীর্ষ নেতা কার্যালয়ে যান। এতে বিক্ষোভকারীরা আবার নড়েচড়ে বসতে শুরু করেন।

তারা বলছেন, চেয়ারপারসন নিষেধ করার পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসায় প্রমাণ হয় সমস্যা সমাধানের কিছুই হয়নি। তাই আবারো বিক্ষোভ শুরু হতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায় হবে না।

ছাত্রদলের পদবঞ্চিত এক নেতার সঙ্গে রোববার সকালে কথা বললে তিনি জানান, শনিবার তাদের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হরতালের আগের দিন হওয়ায় তা বৈঠকটি হয়নি। বৈঠকটি আজকে সন্ধ্যার পর হওয়ার কথা আছে।

এর আগে পদবঞ্চিতরা বিকেলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠক করবেন বলেও জানান ছাত্রদলের গত কমিটির এই নেতা। তবে কোথায় বৈঠকটি হবে তিনি তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পদবঞ্চিতদের আন্দোলনে শুরু থেকে আছেন ছাত্রদলের সাবেক দফতর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “আজকের মধ্যে কোনো সমাধানে আসতে না পারলে আমরা সোমবার থেকে আবারো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করবো।”

আর ছাত্রদলের গত কমিটির সহ-যোগাযোগ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার বলেন, “এবার বিক্ষোভ শুরু হলে বিএনপিতে কে কোন পদে আছেন তা আমরা দেখবো না। কারণ এরা কেউ কোনো সমাধান দিতে পারেনি।”

তিনি আশা করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা বুঝে কমিটি বাতিল করে যোগ্যদের হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেবেন। পাশাপাশি এ্যানী-টুকুর হাত থেকে ছাত্রদলকে রক্ষা করবেন।

ছাত্রদলের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি জানতে মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত টেলিফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes