Tuesday , 7 April 2020
শিরোনাম
রাতের আঁধারে সিসার নেশায় বুঁদ তরুণ-তরুণী

রাতের আঁধারে সিসার নেশায় বুঁদ তরুণ-তরুণী

সন্ধ্যা হলেই জমে ওঠে রাজধানীর সিসা বারগুলো। এসব বারে যারা যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী।

সম্প্রতি সিসা নিয়ন্ত্রণ আইন হলেও রমরমা এই বাণিজ্য চলছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক সিসা বারে। তবে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর বলছে শিগগিরই নেয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

দেশের একটি বেসরকারি একটি টেলিভিশন সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসার রঙিন নেশার আচ্ছন্ন জীবন ক্ষণিকের এই আনন্দ কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে তা অনেকেরই জানা। তার পরেও থেমে নেই সেবন। খাতা কলমে নিষিদ্ধ হলেও রাজধানীর বুকে চলছে সিসা বারের রমরমা ব্যবসা।

সিসা সেবনকারী বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তারা সিসাকে মাদক বলতে নারাজ। তাহলে কেন আসেন বারে সেই প্রশ্নের নেই কোন জুতসই জবাব।

সিসা সেবনকারী এক তরুণ বলেন, সিসা সেবনে তেমন কোনো ফিলিং নেই। জাস্ট বারে বসলেই একটু খাওয়া-দাওয়া হয় এই আরকি। এছাড়া কিছুই না।

উঠতি বয়সী সিসা সেবনকারী এক তরুণী বলেন, সিসা খেতে বারে আসি জাস্ট টাইম পাস করার জন্য।

আরেকজন সিসা সেবনকারী তরুণী বলেন, এটা (সিসা) খাওয়ার ওই রকম কোনো কারণ নেই যে খাইতেই হবে। আর আমরা জানতামও না যে এটা মাদক জাতীয় ওই রকম কিছু।

এদিকে সিসাকে ‘খ’ শ্রেণির মাদক হিসেবে চিহ্নিত করে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন হালনাগাত করেছে সরকার। যা কার্যকর হয়েছে গত ২৭ ডিসেম্বর। এতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকার বেশ কয়েকটি সিসা বারে এরই মধ্যে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ধানমন্ডির H2o (এইচটুও) লাউন্স/লাউঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ সিসা ও সিসা তৈরির যন্ত্র। এ সময় তিন জনকে আটক করা হয়।

H2o (এইচটুও) বারের অ্যাসিসট্যান্ট সুমন বলেন, গত ২৭ তারিখ থেকে সিসা নিষিদ্ধ হয়েছে। আমরা এখন বার চালাই না।

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, সিসাকে কমপ্লিটলি মাদক হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে, কাজেই আমরা সিসা যেখানে পাবো সেখানেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন বা জেল জরিমানা নয়, উঠতি বয়সী এসব তরুণ-তরুণীদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার তো বটেই, বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতা এবং মূলবোধ।