Friday , 3 April 2020
শিরোনাম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, কলেজের হল বন্ধ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, কলেজের হল বন্ধ।

গতকাল সকাল ৮টার দিকে ক্যাম্পাসের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ছাত্রাবাসের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। যা বেলা ১২টার দিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নেয় এবং পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এহেন অবস্থায় কলেজ কতৃপক্ষ ছাত্রাবাস অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১ ই আগস্ট বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চলাকালেই এসব সাধারণ শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজেদের আধিপত্যকে বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি তৌফিক গ্রুপ এবং সেক্রেটারি শাহিন গ্রুপের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরই সুত্র ধরে গতকাল সকাল ৮ টার দিকে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে তাঁরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা যায় সভাপতি তৌফিক সমার্থকরা এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। তখন শাহীনসহ তার গ্রুপর লোকজন জিম্মি ছাত্রদের উদ্ধার করতে গেলে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তৌফিকের সমার্থকরা শাহীন গ্রুপের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। শাহীনকে কলেজ মাঠে আহত অবস্থায় রেখে তৌফিক বাহিনী শাহীনের হোস্টেলের কক্ষে হামলা চালিয়ে তার নগদ ৫০,০০০ টাকা, কম্পিউটারসহ মুল্যবান জিনিস লুট করে। হমালায় গুরুতর আহত হয় প্রায় ২০ জন, এর মাধ্যে আকরাম, রিমন, ছাব্বির, আতিক, শাহাদত, মেহেদী, সুজনদের অবস্থা আশংকাজনক। আহত ছাত্রদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কলেজ কতৃপক্ষ কলেজের হোস্টেল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। তাদের গতকাল রাত ৮.০০ টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে

এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগের আন্তঃকোন্দলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হুমকির মুখে পড়েছে। এসময় তারা দোষীদের বিচারের দাবি জানান এবং তাদের কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

উক্ত ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় খবর নিলে ওসি জামাল উদ্দীন মীর ৭১বাংলাকে জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত কোন অভিযোন জানায়নি। তবে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ ঘটানা সম্পর্কে অবহিত করলে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।