Tuesday , 4 August 2020
শিরোনাম
বাড়িওলার নির্মমতার শিকার হয়ে জীবন দিতেহলো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে

বাড়িওলার নির্মমতার শিকার হয়ে জীবন দিতেহলো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে

কুষ্টিয়ার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সেই পেট্রোলদগ্ধ নারীটি সন্তান জন্ম দিয়েই মারা গেলেন। শুক্রবার (৮ মে) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহুর্তে নারীটি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে সন্তানটিও ছিল মৃত।

জুলেখা (৩৫) নামের ঐ নারীটি স্বামীসহ শহরের কমলাপুর এলাকায় নবীন প্রামানিক স্কুল সংলগ্ন ফজলুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া সেন্টার এলাকার মেহেদী হাসান। ঘটনাটি ঘটে ২৮ এপ্রিল। সকালের দিকে জুলেখা তার বাড়ির বাইরে পাশের দুইজন মহিলার সাথে কথা বলছিলো। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে বাড়ির মালিকের বড় ছেলে রোকনুজ্জামান রনি ঐ নারীটির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

জুলেখার আর্তচিৎকার শুনে অন্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে আসে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে রের্ফাড করা হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার জানিয়েছিলেন জুলেখার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি জায়গা পুড়ে যায়।

তাৎক্ষণিক অর্থের যোগান না হওয়ায় যখন ঝুলে যায় নারীটির চিকিৎসা। ঠিক তখন এগিয়ে আসেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তত্ত্বাবধানে কুষ্টিয়া মডেল থানা ওসিসহ অন্যান্য অফিসাররা সবাই টাকা তুলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং চিকিৎসার জন্য কিছু নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে দেন পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ রনিকে আটক করে। মডেল থানায় মামলা হয়।

ঢাকায় চিকিৎসার এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) জুলেখাকে কুষ্টিয়ায় ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নারীটি মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে আজ তার মৃত্যু হয়।

ওসি গোলাম মোস্তফা জানান ভাড়া বকেয়ার কারণে জুলেখার সাথে বাড়ির মালিকের স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রনির সাথে ঐ নারীটির হাতাহাতিও হয়। রনি ক্ষিপ্ত হয়ে অঘটনটি ঘটায়।

সন্ধ্যায় ওসি গেলাম মোস্তফা জানান অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।

অগ্নিদগ্ধ ভিডিওটি দেখুন এখানে: