Monday , 6 July 2020
শিরোনাম
ত্রাণের নামে দিনমজুরের মেয়ে ধর্ষণ: আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ত্রাণের নামে দিনমজুরের মেয়ে ধর্ষণ: আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ত্রাণ দেওয়ার নামে ধর্ষণ করার অভিযোগে ইউপি সদস্য আনোয়ার খানের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণ মামলা করেছে ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনার তালতলী থানায় একটি ধর্ষনের মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়ের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকার করোনাভাইরাসের কারনে দিনমজুর সোবাহান কোনো কাজকর্ম না করতে পেরে বেকার হয়ে পড়ে। এর জন্য তার পরিবার খাদ্য সংঙ্কটে পড়ে।

বিষয়েটি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে গত ৬ এপ্রিল সোমবার জানালে তিনি তাদের নাম সরকারী সহায়তার তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার খানে কাছে যায় সোবাহান। তিনি সেই সময় তার মেয়েকে জাতীয় পরিচয় পত্রের কার্ড নিয়ে আসতে বলেন।

পরদিন ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ঐ দিনমজুর সোবাহানের বিবাহিত মেয়ে ইউপি সদস্যর বাড়িতে গেলে এই সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় ঐ মেয়ের স্বামী ইসরাফিল ইউপি সদস্যর বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি দেখে ফেলে। এই ঘটনা কাউকে বললে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ভুক্তভোগী দিনমজুর পরিবারকে থানায় মামলা করলে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরের দিন স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় ইউপি সদস্য।

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আনোয়ার খান কে আসামী করে ৯ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে তালতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা ধায়ের করেন ভুক্তভোগী দিনমজুর সোবাহানের মেয়ে। অভিযুক্ত আনোয়ার খান তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এদিকে ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে গতকাল বিকেলে ওই মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে তালতলী থানায় নিয়ে আসেন। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ইউপি সদস্য আনোয়ার খান কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা ধায়ের করেছেন। তাকে ডাক্তারি পরিক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, অনলাইনে ত্রাণ দেয়ার নামে দিনমজুরের মেয়েকে ধর্ষণ করলো ইউপি সদস্য এমন শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগে বিষয়টি ভাইরাল হয়। এই ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে ফুসে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমগুলো।