Friday , 3 April 2020
শিরোনাম
ড. ফরাসউদ্দিন কতটা আওয়ামী?

ড. ফরাসউদ্দিন কতটা আওয়ামী?

ড. ফরাসউদ্দিন সম্প্রতি হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে নিস্ক্রিয় হয়েও তার হঠাৎ মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচিত। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা বাতাস বইছে।

ড. ফরাসউদ্দিনের প্রার্থীতার খবরটি প্রচার হওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনী এলাকার সোশ্যাল মিডিয়া, ঢাকাস্থ নির্বাচনী এলাকার শিক্ষিত সমাজ এবং আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়।

ঢাকাস্থ শিক্ষিত সমাজের এক সমর্থককে জিজ্ঞেস করা হয়, ড. ফরাসউদ্দিন কতটুকু আওয়ামী? তিনি বলেছেন, ড. ফরাসউদ্দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। ছিলেন বাংলাদেশ ব্যংকের গভর্নর। গুরুত্বপূর্ন এমন দুইটি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির আওয়ামী পরিচয়ের আর দরকার আছে কি?

আছে বৈকি, মাঠের এক প্রবীন নেতা এমনটাই বললেন। সুসময়ে দলের কাছাকাছি থাকলেই দলীয় নেতা বা কর্মী হওয়া যায় না। দুর্দিনের ভূমিকা পালনকারীরাই আওয়ামী লীগের আসল কর্মী। তিনি আরও বলেন ড. ফরাসউদ্দিন কেবল দলের সুসময়ে আবির্ভাব হয়েছেন। দুঃসময়ে তার অস্বিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

স্থানীয় বর্ষীয়ান এক আওয়ামী নেতা বলেন, উনি উচ্চ শিক্ষিত হতে পারেন, কিন্তু তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ড. ফরাসউদ্দিনের ইতিহাস অন্তত তাই বলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনায় ড. ফরাসউদ্দিনের ভূমিকা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু যাকে বিশ্বাস করে একান্ত সচিবের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই ফরাসউদ্দিন সবার আগে চম্পট দেন। হত্যার ঠিক দুই দিন আগে চাকরী থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে চলে যান। বঙ্গবন্ধুর হত্যার দিন বা সেই সময়টি তার ভূমিকা কি?

এতো নিশ্চুপ কি করে ছিলেন তিনি? এতো নিরাপদ কিভাবে থাকলেন? একজন একান্ত সচিব সকল তথ্যের উৎস জেনেও সেনাবাহিনী কেনো তাকে নিরাপদে থাকতে দিয়েছেন?

বর্ষীয়ান নেতা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৬ দিন পর, ২১ শে আগষ্ট তিনি আমেরিকার যাওয়ার জন্য কখন ঢাকা এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন, শুধু তার জন্য সেই ফ্লাইটটি আটকে রাখা হয়। উড়তে দেওয়া হয়নি। সেনাবাহিনী তাকে আটক করে। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই উপরের নির্দেশে ড. ফরাসউদ্দিনকে সেনাবাহিনী ছেড়ে দেয়। এ বিষয়টি এখনো পরিষ্কার না যে, কে তাকে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলো? খন্দকার মুশতাক নাকি আমেরিকান এমব্যাসি?

এসকল প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া গেলে ড. ফরাসউদ্দিনকে বিশ্বাস করার কোনো যুক্তি নেই। অন্তত, যারা নিবেদিত আওয়ামী কর্মী, বঙ্গবন্ধুকে মনে ধারন করে, তারা ড ফরাসউদ্দিনকে আওয়ামী মনে করে না।

বরং মনে করে, বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিলো। এ অভিযোগগুলো অনেক স্পর্শকাতর, তাই ইতিহাসের পাতায় বিষয়টি দেখা যাক। গবেষক Lawrence Lifschultz, বঙ্গবন্ধু হত্যার উপর অন্যতম গবেষক, তার বইয়ে “Bangladesh: The Unfinished Revolution” লিখেছেন যে, বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে তৎকালীন আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা “সি আই এ” এর সংশ্লিষ্টতা ছিলো।

সি আই এর তৎকালীন ঢাকার প্রধান, ফিলিপ্স চেরী, ইউ এস এইডের (USAID) মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সকল তথ্য ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউতেও উল্লেখ আছে (১৯৭৫)। যে এইড এজেন্সি দিয়ে সি আই এ গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, সেই এজেন্সি যখন ড. ফরাসউদ্দিনকে ডক্টরেট করার জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে তখন তার নৈতিকতা নিয়ে নানান প্রশ্নের জন্ম দেয়।

নির্মম বাস্তবতা হলো, ১৯৭৫ সালের আগাষ্ট মাসে যারা নীজ স্বার্থে নৈতিকতা বিসর্জন দিতে পারে, তারা আওয়ামী নয়, এমনকি এদেশেরও নন। তারা কেবলই স্বার্থপর।