Tuesday , 4 August 2020
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার ৭ বছর সাজা চায় দুদক

খালেদা জিয়ার ৭ বছর সাজা চায় দুদক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড চায় দুর্নীতি দমন কমিশন।

মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশী বাজারের বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানিতে এ দাবি করেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৫৫মিনিটের দিকে বকশীবাজারের অস্থায়ী ওই আদালতে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এরপর বেলা ১২টা ১০মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন। মামলার এজাহার পড়ার মধ্য দিয়ে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন তিনি।

যুক্তিতর্কে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার নিজের ছয় নম্বর শহীদ মঈনুল রোডের বাড়ির নাম ব্যবহার করে শহীদ জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট নামে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ট্রাস্টটি রেজিস্ট্রি করেন। উক্ত দলিলে তার কোন সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করেছেন তার উল্লেখ নেই। ট্রাস্ট সম্পর্কে অন্য কোন ব্যক্তির কিছু জানার সুযোগ ছিল না। তিনি ট্রাস্টের কাজে তার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী এবং তার এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও অন্যদের সহযোগিতায় সোনালী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শাখায় লেনদেন করেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার বলে ক্ষমতা অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সংগৃহীত ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা তার রাজনৈতিক সচিবের সহযোগিতায় সংগ্রহ করেন। খালেদা জিয়া উক্ত টাকার বৈধ উৎসের বিষয়ে জানতে না চেয়ে বরং উহার বৈধতার প্রচেষ্টায় মেট্রোমেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেড এর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছেন।

দুদকের এ আইনজীবী বলেন, টাকার উৎস যে অবৈধ খালেদা জিয়া তা জানতেন। কারণ খালেদা জিয়া উক্ত ট্রাস্টের প্রথম ম্যানেজিং ট্রাস্টি ছিলেন। তার অগোচরে ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা জমা হওয়ার কথা না। খালেদা জিয়ার কার্যকলাপের কারণে বিএনপি এর দলীয় ফান্ড থেকে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা পাওয়ার পরও তিনি জেনে শুনে ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। অর্থাৎ দলীয় ফান্ডের অতিরিক্ত টাকা অবৈধভাবে সংগৃহীতভাবে জমা ছিল। তা খালেদা জিয়ার জানা ছিল। খালেদা জিয়া তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক সচিব ও অন্যান্যদের সহায়তায় অবৈধ টাকা সংগ্রহ ও খরচ করেন। তিনি স্পষ্ট জানতেন ওই টাকার উৎস অবৈধ। সে কারণেই মেট্রোমেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপারের টাকা হিসেবে উক্ত অংকের টাকাকে বৈধ করার অপচেষ্টা করেছেন।

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়া ট্রাস্টের নামীয় উক্ত ব্যাংক শাখার হিসেবে দুটি চেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২৭ লাখ টাকা প্রদান করেন। ব্যাংক থেকে ২টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমির দাতা সুরাইয়া খানের নামীয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের ২টি হিসেবে স্থানান্তর করেন এবং তা জমা করেন।

তিনি বলেন, চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ক্রয়কৃত জমির দলিল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দলিলটিতে মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ রয়েছে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার টাকা। কিন্তু দলিলে উল্লেখিত টাকা ছাড়াও অপর একটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির দলিল দাতাকে প্রদান দেখিয়ে লেনদেন করেছেন। অর্থাৎ তিনি অবৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত টাকা মিসেস সুরাইয়া খানকে প্রদান দেখিয়ে লেনলেন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ উৎস থেকে টাস্টের হিসেবে মোট ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে, জমা করে এবং উত্তোলন করে পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২নং আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তাই আমরা খালেদা জিয়াসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড দাবি করছি।

এদিকে একই আদালতে বিচারাধীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ধার্য রয়েছে। ওই মামলায় ৬ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়াসহ ২ জনের যাবজ্জীবন এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ চারজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছে দুদক।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা সচিব হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

মামলাটিতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।