Tuesday , 4 August 2020
শিরোনাম
ক্যারিবীয়দের ডানায় শিকল দিলেন মিরাজ

ক্যারিবীয়দের ডানায় শিকল দিলেন মিরাজ

সকাল ডেস্ক: ৪ বছর ধরে ঘরে-বাইরে নেই কোনো সিরিজ জয়! ২০১৪, শেষ জয়টিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। আবারও সুযোগ পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় ম্যাচে তাদের সামনে ছিল সিরিজ জয়ের হাতছানি। সেই সঙ্গে হারের বৃত্ত ভেঙে মুক্তির ডানায় উড়ার উপলক্ষও। কিন্তু সেই ডানা ঝাপটে উড়তে পারেনি তারা। তরুণ অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাল যেন শিকল হয়েছিল তাদের ব্যাটিংয়ের ডানায়। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে স্পিন জাদুতে শীতের সন্ধ্যার কুশায়া তারা যেন দেখছিল দুপুরেই। দলের জন্য ফের লড়াই করেছেন শেই হোপ।

হাঁকিয়েছেন ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি। তৃতীয় ম্যাচেও অপরাজিত থাকেন ১০৮ রানে। শেষ পর্যন্ত হাতে অক্ষত ছিল একটি উইকেটও। এরপরও ২০০তম ওয়ানডে ভেন্যুর তালিকাতে যুক্ত হওয়া সবুজে ঘেরা মাঠে ক্যারিবীয়রা থেমে যায় ১৯৮ রানে। অন্যদিকে নিজের ২২ তম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং উপহার দেন মিরাজ। ১০ ওভারের স্পেলে নিয়েছেন ২৯ রান খরচ করে ৪ উইকেট।

তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান ২ উইকেট নিয়ে। স্পিনারের শিকার দেখে চুপ থাকেনি টাইগারদের পেস বিভাগও। অধিনায়ক মাশরাফি ২টি উইকেট নেন তার সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচের একাদশে জায়গা পাওয়া সাইফউদ্দিনের শিকার একটি। মোস্তাফিজ উইকেট না পেলেও খরচ করেছেন ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান। মিরাজের দলে অভিষেক হয়েছিল টেস্ট বোলার হিসেবেই। তবে এখন তিনি ওয়ানডেতেও আস্থার প্রতীক।

টাইগার অধিনায়কের ভয় ছিল ক্যারিবীয়দের ছোট ফরম্যাটে দাপট নিয়ে। তাদের কব্জির জোর যে কোনো বোলিং আক্রমণকে অসহায় করে দিতে পারে এমনটাই ভয় ছিল। সেই সঙ্গে দিবারাত্রির ম্যাচে আরেক প্রতিপক্ষ ছিল শীতের শিশিরও। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে প্রথম ওয়ানডেতে সেই ভয় উড়িয়ে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল মাশরাফির দল। কিন্তু পরের ম্যাচেই ধাক্কা লাগে আত্মবিশ্বাসে। শেই হোপের ১৪৬ রানের দানবীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ২৫৬ রানের লক্ষ্য টপকে জয় পায় সফরকারীরা। তাই সিলেটে শেষ ম্যাচ ছিল অলিখিত ফাইনাল। তারউপর ভেন্যুর ওয়ানডে অভিষেক। সব মিলিয়ে টাইগারদের সামনে যেন কঠিন পরীক্ষা। তবে প্রথম দুই ওয়ানডেতে টস ভাগ্য সহায় না থাকলেও শেষটিতে ধরা দেয়। শিশিরের ভয়ে ম্যাচ এক ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছিল। তাই টসে জিতেই মাশরাফি ক্যারিবীয়দের ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দেরি করেননি।

সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করতে এদিন সবার আগে দলকে উইকেট উপহার দিলেন মিরাজ। চন্দ্রপল হেমরাজকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরু করেন ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ে যাত্রা। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের মতো শেষটিতে এক প্রান্তে প্রাচীর হয়ে রইলেন হোপ। তাতে কি? অন্যপ্রান্তে টাইগারদের শুরু হলো একের পর আঘাত। যদিও ড্যারেন ব্রাভোকে নিয়ে ৪২ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন হোপ। কিন্তু ১০ রান করার পরই মিরাজের বলে বোল্ড হন ব্রাভো। এরপর হোপ এর সঙ্গী হন স্যামুয়েলস। সেই জুটির স্থায়িত্ব ৩৯ রানের। তিনি ১৯-এ পা রাখতেই আঘাত সাইফ উদ্দিনের। তরুণ এই পেস বোলিং অল রাউন্ডার বোল্ড করে বিদায় করেন স্যামুয়েলসকে।

৯৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবীয়দের ব্যাটিং এরপর আর ডানা মেলতে পারেনি। কারণ স্কোর বোর্ডে মাত্র ১ রান যোগ হতে আউট দলের আরেক ব্যাটিং ভরসা শিমরন হেটমায়ার। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরমেটেই যেন তিনি পণ করেছেন বন্ধু মিরাজের বলেই আউট হবেন। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হেটমায়ার টাইগারদের এই তরুণ অফ স্পিনারের শিকার হলেন ৬ বার। শুধু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিরাজ বোলিংয়ে আসার আগেই উইকেট দেন তিনি।

মিরাজ তার চতুর্থ শিকার বানান পাওয়েলকে। তখনও দলীয় ১০০ থেকে ৩ রান দূরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরাজের আঘাত থামতেই এবার সাকিবের হানা। দুই অলরাউন্ডার রোস্টন চেজ ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে বিদায় করেন সাকিব। ততেই সিলেটের সবুজ এই স্টেডিয়াম ধূসর হয়ে যায় ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য। ১৪৩ রানে ৭ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একাই লড়াই করে আশা দেখান হোপ। গতকালও তাকে সঙ্গ দেন কিমো পল। তবে বাকি কাজটা দারুণভাবেই সারেন অধিনায়ক মাশরাফি। স্পিনারদের দাপটে বাংলাদেশ অধিনায়ক ভাগ বসান কেমার রোচকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে।

অন্যদিকে সাকিবকে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন হোপ। শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে ১০৮ রানের ইনিংসটা অপরাজিত থেকে শেষ হলেও দলের স্কোর বোর্ড ছুঁতে পারেনি দুইশ’। অন্যদিকে তরুণ অফ স্পিনার মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন ২৯ রানে। তার আগের সেরা ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ উইকেট ৩৬ রানে।