Tuesday , 4 August 2020
শিরোনাম
করোনার ভেতরে এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ : আব্দুস সালাম আজাদি

করোনার ভেতরে এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ : আব্দুস সালাম আজাদি

করোনার ভেতরে এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ

=============================করোনার লকডাউনের সময়ে একটা খালিস রাজনৈতিক পার্টির আত্মপ্রকাশের ঘটনা হয়ত ইতিহাস হয়ে থাকবে। এই সময়ে রাজনৈতিক ভাবে নতুন কোন আশা কেও দেখতে চেয়েছিলো কিনা জানিনা। কিন্তু আমি জানি এখন মানুষ দেখতে চেয়েছিলো সেবা, সেবা ধর্মী কাজের নানান পরিকল্পনার প্রতিফলন, দেখতে চেয়েছিলো রাজনৈতিক সাত কাহনের ভেতরে একটা সুন্দর ন্যারিটিভ। আমি মুখ্য সুখ্য মানুষ, এবিপির কথায় আমি সেটা পাইনি। আশা করি আমার এই পয়েন্ট টা কন্সট্রাক্টিভ ক্রিটিসজম হিসেবে নেবেন আমার বন্ধুরা।

এখানে নতুন কি থাকবে? যা বলা হয়েছে তা হলো ধর্ম, ও মুক্তযুদ্ধকে মাথার উপরে রেখে বাকি বিষয় গুলোতে দেশের সার্বিক ঐক্য। তার মানে কি? সেক্যুলারিজম? মানে আমরা ধর্মকে রাজনীতি থেকে কি বের করলাম? এই দলে তাহলে বাংলাদেশের সকল ধর্মের লোকেরা সকল ধর্মকে হয় বুকে নিয়ে এই খানে আসবেন। অথবা ধর্মকে বাদ দিয়ে এখানে আসবেন। এই যদি হয় তাদের বক্তব্য, তাহলে অন্যান্য দলগুলোর পার্থক্য কি? ধর্মীয় দল গুলো প্রথম মতের প্রবক্তা, সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলো দ্বিতীয় মতের অনুসারী। তাহলে তাদের স্বকীয়তা কোথায়।
আর মুক্তিযুদ্ধ কে মাথার উপরে রাখার মানে কি? মুক্তিযুদ্ধ এমন একটা রাজনৈতিক গেইম যেটা ভারতের পোষা সন্তান তুল্য। এই ঢাল দিয়ে ভারত তার স্বার্থ সংরক্ষন করে, এবং এই তূণ ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতরে তারা ভারত বিরোধি সংহার করে। এখন এবিপি কি? ভারতের পক্ষে নাকি ভারতের বিপক্ষে। ভারত নিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতি সামনে যাবে। এবিপির কাছ থেকে কোন কথা ঐখানে দেখলাম না। বরং ভারতের সুড়ঙ্গের মুখে দলের বহর নিয়েই যেন ঢুকে পড়েছে মনে হচ্ছে। এ ব্যপারে “মুক্তিযুদ্ধীয়” টানেল ভিশন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশী দৃষ্টি ভংঙ্গির সরল ব্যাখ্যা চাচ্ছি।
তাদের বক্তব্যে একটা ডিফাইনিং গতিপথের দ্বার উন্মোচন দরকার ছিলো। আমরা যারা রাজনৈতিক কাজ করে আখিরাতে মুক্তি পাওয়ার ছকে চলেছি, তারা এখানে কিছুই পেলাম না। আবার যারা দুনিয়া জয়ের নেশা ও বাংলা জয়ের অভীপ্সা নিয়ে একটা দলের আত্মপ্রকাশের স্বপ্ন দেখছিলো তারাও এখানে কি পাবে বুঝতেছিনা। আরেকটু খোলসা করলে আমাদের মত আনাড়িদের উপকার হবে।
করোনার লকডাউন উপেক্ষা করার মত যত প্রয়োজনীয় অবস্থার দরকার ছিলো, তাদের আত্ম প্রকাশের ধরণ, ধারণ, স্থান ও উপস্থিতিতে তার কি কিছু ছিলো? কেন জানি বাংলাদেশের কাজ বাজ দেখে যে বিস্ময় দেখি, এই মারাত্মক সময়ে অনেক প্রতিক্ষিত একটা দলের আত্মপ্রকাশ দেখে কবি গুরুর “রেখেছো বাঙালি করের” ব্যঞ্জনাই যেন অনুভূত হলো।
আমি আশা করি তাদের যাত্রা শুভ হোক, দেশবাসির যে আকাংক্ষা তারা ধারণ করতে যেয়ে “আমার বাংলাদেশ” নামক একটা তীর্যক নাম করণের দিকে তারা দৃষ্টি দিলেন, সেখানে যেনো বাণের হুল না পেয়ে বরং গানের সুর স্থান পায়।
“আমার বাংলাদেশ” নামক একটা বই একবার আমার বন্ধু ডঃ আবুল কালাম আজাদ আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেটার ভূমিকা পড়ে চমকিত হয়েছিলাম। ভেতর আর পড়িনি। কারণ শীরোনাম ও লেখকের নাম পড়ে ডঃ সাজ্জাদ স্যারের বইটা মনে পড়েছিলো, ও ডঃ মোহর আলি স্যারের গর গরে রাগের কথা কানে বেজেছিলো। সদ্য প্রকাশিত দলের নামটাও সেই একই অনুভূতি আমার মস্তিষ্কে ক্লিক করলো।
আমি শুধু বলবো এবিপি পথ চলুক।
মান্যবর এমপি শামীম উসমানের ভাষায় “এবার খেলা হবে” গুঞ্জন শুনতে হবে মনে হচ্ছে