Monday , 6 July 2020
শিরোনাম
ঐতিহাসিক ১১মে, আমাদের প্রেরনার উৎস। মুহা. রুহুল আমিন,

ঐতিহাসিক ১১মে, আমাদের প্রেরনার উৎস। মুহা. রুহুল আমিন,

ঐতিহাসিক ১১মে, আমাদের প্রেরনার উৎস। মুহা. রুহুল আমিন, আজ ঈমানী চেতনায় উদ্ভাসিত হওয়ার দিন। যে জাতি কুরআনের সম্মান রক্ষায় জীবন দিতে পারে, সে জাতি দিক ভ্রান্ত হতে পারে না। আল্লাহদ্রোহীরা যুগে যুগে কুরআনের বিরুদ্ধে নানা পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সফল হয়নি। আল্লাহ বলেনঃ “এরা (কাফেররা) তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, অথচ আল্লাহর ফয়সালা হলো তিনি তার নূরকে প্রজ্বলিত করবেন।” (সূরা সফ-৮) এই দিনে কুরআনের কর্মীদের কানে ভেসে আসে আবগাপ্লুত সেই গান ‘আমি আমার এ দু’টি আঁখি কী করে ধরে রাখি অঝোরে কান্না বেরিয়ে আসে যখন মাসের পরে মাস পেরিয়ে ১১ মে আসে… আজ সেই ১১ মে। ঐতিহাসিক কুরআন দিবস। অন্ধকারের কালো থাবায় অস্থির মানবতা যখন গুমরে কাঁদছিল, তখন মহাগ্রন্থ আল কুরআন আলোর বার্তা নিয়ে মানবতার দুয়ারে হাজির হলেন। ধরার বুকে সবচেয়ে দামি “আল কুরআন”। যার সংস্পর্শে এসে মানুষ অনেক দামি হয়েছে, কৃতদাস হয়েছে অসিম মর্যাদার অধিকারি। আল্লাহ নিজেই এর রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বলেনঃ “নিশ্চচয়ই কুরআন আমিই নাজিল করেছি, আর উহার হেফাজতের দায়িত্ব আমারই” (সূরা হিজর-৯) ১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল কুরআন বাজেয়াপ্ত করার ঘৃণ্য আবেদন করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এ ঘটনায় বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে সারা মুসলিম জাহানে। ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয় এক জঘন্য ঘটনা। ভারতীয় নাগরিক পদ্মমোল চোপড়া ও শিতল শিং কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মিসেস খাস্তগিরের আদালতে কুরআন বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়ে রিট করেন। তাদের অভিযোগ সূরা বাকারার ১৯১ নং আয়াত এবং তারা বলে কুরআন যেহেতু কাফেরেদর হত্যা করার কথা বলেছে, সেহেতু এটি সাম্প্রদায়িক উস্কানীদাতা গ্রন্থ (নাউযুবিল্লাহ)। বিচারপতি পদ্ম খাস্তগির মামলাটি গ্রহণ করে ২২ এপ্রিল তিন সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম দেশ প্রতিবাদের উত্তাল তরঙ্গের জলরাশি আছড়ে পড়ে। ১০ মে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে ছাত্র-জনতার প্রতিবাদ মিছিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে বিকাল ৩টায় প্রতিবাদ সমাবেশ। সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা বইতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই তৎকালীন পুলিশ সুপার আওলাদ হোসেন ও মেজিস্ট্রেট ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি। ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লা দম্ভ করে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে, এই মুহুর্তে স্থান ত্যাগ করতে হবে নইলে গুলি। কুরআন প্রেমিক কর্মীরা দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ ময়দানের দিকে। তখন শুধুমাত্র দোয়া করে শেষ করার আবেদন করলেও শুনেনি প্রশাসন। গগণ বিদারী শ্লোগান- “আল কুরআনের অপমান সইবে না আর মুসলমান” এই আওয়াজের ধ্বনী-প্রতিধ্বনীত হলেও কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনি প্রশাসক দলের। কুখ্যাত ম্যাজিস্ট্রেটেট নির্দেশে গুলি করে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই ঝরে পড়ে ৮টি তাজা গোলাপ। আহত হন অসংখ্য কুরআন প্রেমিক কর্মী। লাশ আর আহতদের স্তুপে ভরে গেল ঈদগাহ ময়দান। টুপি, পাঞ্জাবী আর দাড়ি দেখলেই নির্মমভাবে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। নৃশংসতা! গুরতর আহতদের নিয়ে হাসপাতালে রওনা হওয়া বাসে গুলি করে। এতে আহত হয় গাড়ির হেলপার, মারা যান রেল শ্রমিক নজরুল ইসলাম। আহতদের নামিয়ে দৈহিক নির্যাতন চালানো হয়। নিখোঁজ হয় কয়েকজন আহত ব্যক্তি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে পুরা এলাকা। এভাবে কুরআনের কর্মীদের খুনে রঞ্জিত হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি। সেদিনের শহীদেরাঃ “আল কুরআনকে ভালোবেসে প্রাণ দিয়েছিল যারা আজকে দেখো সামনে এসে, রক্তমাখা শহীদিবেশে ফের দাঁড়িয়েছে তাঁরা।” শহীদ আব্দুল মতিন, ১০ম শ্রেণী (ছাত্র) শহীদ রাশিদুল হক, ১০ম শ্রেনী (ছাত্র) শহীদ শীষ মোহাম্মদ, ৯ম শ্রেণী (ছাত্র) শহীদ সেলিম, ৮ম শ্রেণী (ছাত্র) শহীদ শাহাবুদ্দিন, ৬ষ্ঠ শ্রেণী (ছাত্র) শহীদ আলতাফুর রহমান, কৃষক শহীদ মোক্তার হোসেন, রিক্সাচালক শহীদ নজরুল ইসলাম, রেল শ্রমিক হে আল্লাহ শহীদ ভাইদেরকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিন। আমাদেরকে তাঁদের রেখে যাওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দিন।